পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে তৃণমূল কংগ্রেসে সাংগঠনিক রদবদল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। অগ্রাধিকার দিলেন তরুণদের আর প্রবীণদের রাখলেন পরামর্শদাতার ভূমিকায়। পাশাপাশি সর্বভারতীয় রাজীতিতে প্রাসঙ্গিক হতে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অন্য রাজ্যেও সংগঠন এবং এমএলএ, এমপি বাড়ানোয় জোর দিয়েছেন। সেই পরিকল্পনা অনুসারে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আনা হয়েছে ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জিকে। তাকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
তৃণমূল সূত্র বলছে, সিদ্ধান্ত হয়েছে এখন থেকে প্রশাসনিক বিষয়টি দেখবেন মমতা ব্যানার্জি। অর্থাত্, পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালনায় থাকবেন তিনি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বময় কর্তৃত্ব থাকবে অভিষেক ব্যানার্জির হাতে। ভারতের অন্য রাজ্যে কোথায়, কীভাবে সংগঠনের শক্তি বাড়ানো হবে, তা দেখবেন তিনি। তবে মমতা ব্যানার্জি আগের মতোই দলের সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সন থাকছেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সর্বভারতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্ব বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
এত দিন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মমতা ব্যানার্জির অতিঘনিষ্ঠ সুব্রত বক্সি। ২০১১ সালে তার জেতা ভবানীপুর বিধানসভা আসনটি তিনি ছেড়ে দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জিকে। সেই আসন থেকে উপনির্বাচনে জিতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আসেন মমতা ব্যানার্জি। এই সুব্রত বক্সির হাতে দল থাকলেও এবার মমতা সেই দায়িত্ব দিলেন ভাতিজা অভিষেককে। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণায় মমতার পর দ্বিতীয় মুখ হিসেবে উঠে আসেন অভিষেক। এবার সাংগঠনিক পর্যায়েও সেই দায়িত্ব দেওয়া হলো।
এত দিন যুব তৃণমূলের সভাপতি পদে ছিলেন অভিষেক। তার জায়গায় আনা হয়েছে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে। শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বে সিপিএমের সাবেক রাজ্যসভার এমপি ঋতব্রত ব্যানার্জি। দলে এক ব্যক্তি এক পদ কার্যকর করতে চেয়েছেন মমতা। সে অনুযায়ীই গতকাল সাংগঠনিক রদবদল করা হয়। ঠিক হয়েছে, রাজ্যের কোনো মন্ত্রীকে আর জেলা সভাপতি বা দলের অন্য কোনো সাংগঠনিক পদে রাখা হবে না। আবার দলের কোনো পদাধিকারীকে নিয়োগ করা হবে না প্রশাসনিক পদে। জেলাস্তর থেকে একেবারে ব্লকস্তর পর্যন্ত এই নিয়ম চালু থাকবে। যদিও এ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, ‘নিজের ঘর থেকেই এক ব্যক্তি এক পদ কার্যকর করা উচিত ছিল মমতার।’
প্রসঙ্গত, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ত্রিপুরা, মেঘালয়, মনিপুরে সংগঠন বাড়াতে পেরেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ঐ সব রাজ্যে একাধিক এমএলএ জেতায় তৃণমূল সর্বভারতীয় দলে পরিণত হয়। তবে লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের বাইরে দাগ কাটতে পারেননি তারা। এবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে বড় জয়ের পর নতুন করে সর্বভারতীয় পর্যায়ে প্রভাব বাড়াতে চাইছেন মমতা। কারণ একাধিক রাজ্যে এমপি না থাকলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধী মুখ হয়ে উঠতে পারবেন না মমতা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল মনে করছে, একাধিক রাজ্যে এমপি থাকলে নির্বাচন-পরবর্তী জোটের অন্যতম মুখ হয়ে উঠতে পারেন মমতা। সেই লক্ষ্যেই এখন থেকে মঞ্চ প্রস্তুত করছেন তিনি।