বিচারের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে ভার্চুয়াল কোর্টের

ভার্চুয়াল কোর্টে বিচারের পরিধি বেড়েছে। আগে এসব কোর্টে শুধু হাজতি আসামির জামিন শুনানি হতো। কিন্তু এখন থেকে ভার্চুয়াল কোর্টগুলোকে ম্যাজিস্ট্রেট ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজের আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল ও রিভিশন শুনানির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

এছাড়া করোনার কারণে যেসব দেওয়ানি মামলা রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি সেগুলোর নতুন করে দিন ধার্য করে রায় ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি এই নির্দেশনা জারি করেন।

প্রধান বিচারপতির এই নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, করোনার কারণে দেশের আদালতসমূহে সীমিত পরিসরে বিচার কাজ চলছে। কিন্তু করোনা থেকে কবে আমরা মুক্তি পাব তা কেউ জানি না। এ কারণে হয়তো প্রধান বিচারপতি ভার্চুয়াল কোর্টগুলোতে বিচারের ক্ষেত্র বৃদ্ধি করেছেন। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণের বিচারপ্রাপ্তির দ্বার আরো উন্মুক্ত হলো।

গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়। তখন দুই মাস দেশের সব আদালতে বিচার কাজ বন্ধ ছিল। পরবর্তী সময় ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ’ এর আওতায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দেশের আদালতসমূহে ভার্চুয়ালি বিচার কাজ শুরু হয়। প্রথমে এসব কোর্টে শুধু হাজতি বন্দির জামিন শুনানি হতো। এখন শুধু হাজতি আসামির জামিন শুনানিই নয়, আত্মসমর্পণ করে ফৌজদারি মামলার আসামিরা শারীরিক উপস্থিতিতে জামিন চাইতে পারছেন।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহে সকল প্রকার দেওয়ানি ও ফৌজদারি আপিল/রিভিশন মামলা শুনানি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করবেন। এছাড়া পক্ষগণের উপস্থিতি বা সাক্ষ্যগ্রহণের আবশ্যকতা নেই এরূপ দেওয়ানি আপিল/রিভিশন/রিভিউ এবং দেওয়ানি মোকদ্দমা/বিধি মামলা নিষ্পত্তি করবেন। ইতিমধ্যে যেসব দেওয়ানি মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি বা রায় প্রচারের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল, কিন্তু করোনার কারণে রায় ঘোষণা সম্ভব হয়নি সেসব মামলার পুনরায় তারিখ ধার্য করে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম