কলকাতা থেকে দোহা

আজ আবার বাংলাদেশ-ভারত ফুটবল লড়াই

 স্পোর্টস রিপোর্টার

২০১৯ সাল। ১৫ অক্টোবর। কলকাতার সল্ট লেকের মাঠে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ বাছাই এবং ২০২৩ চীন এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে গ্রুপ ম্যাচ বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি হয়। প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে সেই বাংলাদেশ ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। শেষ দিকে গোল হজম করে ম্যাচটা ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে শেষ হয়। মাথা নিচু করে বাড়ি ফিরেছিলেন কলকাতার ফুটবল দর্শক। মাথা নিচু করার কারণ হচ্ছে, ম্যাচটা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত কলকাতার দর্শক বলছিল ভারত ম্যাচ জিতবে, কতো গোলে জিতবে সেটাই দেখার বিষয়। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াকে বিব্রতকর প্রশ্ন করা হলেও তিনি হাসি মুখে সব জবাব দিয়েছিলেন। এর পরই ভারতীয় অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীকে এমনভাবে প্রশ্ন করা হলো যেন মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে ওপার বাংলার ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের কাছে এপার বাংলার ফুটবলাররা স্রোতে ভেসে যাবেন।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে ভারতীয় সাবেক ফুটবলাররা এক কাতারে দাঁড়িয়ে সুনীল ছেত্রীদের সাহস দিয়েছেন। প্রেরণা দিয়েছিলেন। ফুটবলে ভারতীয় দর্শক, সংবাদ মাধ্যম, ক্লাব কোচ কর্মকর্তা, সাবেক ফুটবলারদের এক ছাতার নিচে আসার ছবিটা এখনো মুছে যায়নি। পরদিন মাঠে ড্র করে মান বাঁচিয়ে মাঠ ছাড়ল সুনীলরা। ভারতীয় ফুটবল দলের পারফরম্যান্স সমালোচনার ঝড় উঠল। হরেক রকম সাজসজ্জায় উত্তাপ নিয়ে মাঠে গিয়েছিলেন দর্শক, যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গন কাঁপিয়ে দিলেন ডামাডোলে, ম্যাচ শেষে সেই দর্শক নীরব। নিশ্চুপ হয়ে গ্যালারি ছাড়লেন। এবার আর সেই উচ্চকণ্ঠ নেই সুনীলদের। সেই ম্যাচের আগের দিন যা হয়েছিল এবার কাতারের দোহায় ফিরতি ম্যাচের আগে উলটো চিত্র। ভারতীয় শিবির বাংলাদেশকে নিয়ে ছক আঁকছে। সাবধানে পা ফেলছেন ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিমাচ। এমনিতেই কাতারের সঙ্গে ১-০ গোলে হেরেছে। আর একই রাতে বাংলাদেশ পিছিয়ে থেকেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার ঘটনায় ই গ্রুপের খেলা বেশ জমেই উঠেছে। এবার আর সুনীলদের গা-জ্বালা কথা নেই। ভারত চায় প্রতিশোধ নিতে। ভারত চায় ম্যাচ জিততে। ১৩০ কোটি দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে সুনীলদের দিকে। ক্রিকেটে ভারত গেছে ইংল্যান্ড। ফুটবলে গেছে কাতার। খেলা প্রিয় ভারতীয়দের জয় উপহার দিতে সুনীলরা মরিয়া ওয়ে উঠেছেন।

বাংলাদেশও উজ্জীবিত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে ড্রটা যেন ম্যাচ জয়ের চেয়েও বেশি কিছু এনে দিয়েছে। কষ্টের ঘরে একপশলা বৃষ্টি অনেকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস দেয়। জামাল ভুঁইয়ারা এমনটাই মনে করছেন।

চীনে এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ যেতে পারবে কি পারবে না জামালদের কাছে সেটা মুখ্য নয়। ভারতের তুলনায় পিছিয়ে থাকা শক্তি নিয়ে মরণ কামড় বসাতে চান জামাল ভুঁইয়ারা।

জামাল ভুঁইয়া বলছেন, ‘এই ম্যাচটা বাংলাদেশ-ভারত দর্শকের কাছে আলাদা মর্যাদার একটা ম্যাচ।’ মোদ্দা কথা হচ্ছে, সুনীল কিংবা জামাল ভুঁইয়া। তাদের ভেতরে ম্যাচ জয়ের খিদেটা আছে। বাংলাদেশ-ভারত আজকের এই ম্যাচটা ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু  করোনাসহ নানা কারণ দেখিয়ে কাতারের দোহায় নেওয়া হয় সুনীল-জামালদের। দুই বাংলার ফুটবলের ময়দানি যুদ্ধটা ঢাকায় হলে উত্তেজনায় ফেটে পড়ার চিত্রটা কেমন হতো? রং তুলিতে মনের ক্যানভাসে সেই ছবিটা শুধু ফুটবল অনুরাগীরা আঁকতে পারবেন। জসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে হচ্ছে খেলা। শুরু রাত ৮টায়।

বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি

২৭ ম্যাচ ২৭

৪ জয় ১২

১১ ড্র ১১

২০ গোল ৩৬

বর্তমান র্যাংকিং

ভারত ১০৫

বাংলাদেশ ১৮৪