সারা দেশে এক রেটে একই পরিমাণ ইন্টারনেট

প্রত্যন্ত এলাকাসহ সবাইকে একই দামে ইন্টারনেট সেবা দিতে ব্রডব্যান্ডকে ‘এক দেশ এক রেট’ ট্যারিফের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সারা দেশে এক রেটে একই পরিমাণ ইন্টারনেট পাওয়া যাবে। গতকাল রবিবার বিকালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ ঘোষণা দেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সারা দেশে পাঁচ এমবিপিএস ৫০০ টাকা, ১০ এমবিপিএস ৮০০ এবং ২০ এমবিপিএস ১ হাজার ২০০ টাকায় পাওয়া যাবে। ভৌগোলিক বৈষম্য রোধ করে প্রান্তিক পর্যায়ে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়াই এ কার্যক্রমের লক্ষ্য। এ সময় টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আফজাল হোসেন, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, কমিশনার (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং) আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন, আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক, আইআইজি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জুনায়েদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় কয়েকটি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকিদের প্রস্তুতি নেই। ইন্টারনেট সেবাদাতারা বলছেন, এনটিটিএন পর্যায়ে ট্রান্সমিশন ফি (ফ্ল্যাট ও ফ্লোর প্রাইস) ৫০ শতাংশ না কমানো হলে দেশ জুড়ে এক রেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে। সরকার ট্রান্সমিশন পর্যায়ে ‘এক দেশ এক রেট’ দিলেই কেবল এটা সম্ভব বলে তারা মন্তব্য করেন। গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ‘এক দেশ এক রেট’ স্লোগান বাস্তবায়নে কাজ করছে বিটিআরসি।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ বলেন, এর মাধ্যমে ইনফো সরকার তিন প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে যাওয়ার পথ সুগম হলো। স্থানীয় পর্যায়ে আইএসপির মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করার পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় এই ট্যারিফ চালু করল বিটিআরসি। সাধারণভাবে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি হলেও দেশের মোট ব্যান্ডউইথের ৫৮ শতাংশই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করেন।

২০১৯ সালে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) এক অনুষ্ঠানে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ঘোষণা দেন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট হবে ‘এক দেশ এক রেট’। এরপরই মূলত কাজ শুরু হলেও দুই বছর সময় লেগে গেল।

কীভাবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে জানতে চাইলে আইএসপিবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ‘আমরা অনেক জায়গাতেই এই প্রাইজে ইন্টারনেট বিক্রি করে আসছিলাম। এখন সবাইকে এই সিদ্ধান্ত মানতে হবে। যে রেটটা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা সর্বোচ্চ রেট। কেউ চাইলে এর থেকে কম নিয়েও সেবা দিতে পারবেন। তবে ট্রান্সমিশন পর্যায়ে রেট না কমানো হলে আইএসপিবি অপারেটরদের পক্ষে সেটা দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।