সাভারের আশুলিয়ার ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একদল চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ও ঠিকাদারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুরে কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অলি নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। সে একই ঘটনায় অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি আওয়ামী লীগ নেতা শাহিন পালোয়ানের গ্রিলের দোকানের ম্যানেজার। শাহিন পালোয়ান আশুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক। এদিকে শনিবার রাতে সাভারের বিরুলিয়ায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, কাঠগড়ার পশ্চিম পাড়া এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের কাজ করছিলেন ঠিকাদার বেলাল ও তার লোকজন। দুপুর ১২টার দিকে শাহিন পালোয়ান, অলিসহ কয়েক জন সেই সড়কে গিয়ে ঠিকাদারের কাজে বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শাহিন পালোয়ান পালিয়ে যায়। তবে তার ম্যানেজার অলিকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা। ফিরোজা এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার বেলাল বলেন, ‘আমি রাস্তায় কাজ করার সময় তারা এসে কাজ বন্ধ করতে বলে। আমি কাজ বন্ধ না করলে শাহিন পালোয়ান তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে আমাকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে। আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে যাই।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহিন পালোয়ান এলাকায় নানা ধরনের অপকর্ম করে। তার নামে অবৈধ গ্যাস সংযোগের চার-পাঁচটি মামলা আছে। এখনো সে অবৈধ গ্যাস লাইন দেওয়ার কথা বলে বাড়িওলাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া এলাকায় কোনো ব্যবসাবাণিজ্য করতে হলে তাকে চাঁদা দিয়ে তা করতে হয়। আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেরের বাড়িতে কয়েক রাউন্ড গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত ১১টার দিকে এ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আব্দুল কাদের জানান, গত শুক্রবার স্থানীয় কয়েক জন সন্ত্রাসী তাকে রাস্তায় আটকে হুমকি-ধামকি দিলে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। শনিবার রাতে তিনি ঘুমাতে গেলে অতর্কিতভাবে দুর্বৃত্তরা তার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায়। তিনি আরো বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে জাবেদ, মোজাম দেওয়ান ও মো. মনির হোসেন ছাড়াও আরো দুই-তিন জন ছিল। এ বিষয়ে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) অপূর্ব দত্ত বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং গুলির আলামতও জব্দ করেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।