ব্রেন টিউমার, প্রয়োজন সচেতনতা

আজ ৮ জুন বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস। ২০০০ সাল থেকে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীদের সাহস, সহানুভূতি ও বিশ্ববাসীকে সচেতন করার লক্ষ্যে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

শরীরের অস্বাভাবিক কোষ বা টিস্যুখণ্ড, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়, তা-ই টিউমার। এ কোষ অন্যান্য কোষের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে না। টিউমার দুই ধরনের হয়- ১. বিনাইন টিউমার—অল্প চিকিত্সার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একটিমাত্র আবরণ দ্বারা এ টিউমারটি আবৃত থাকে, তবে এটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং অপারেশন করালে ঠিক হয়ে যায়। ২. ম্যালিগনেন্ট—এ টিউমার ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক। ক্যানসারও একধরনের ম্যালিগনেন্ট টিউমার। স্বভাবতই কোনো আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে না ক্যানসার, যার ফলে তা অনিয়ন্ত্রিত ও অগোছালোভাবে বৃদ্ধি পায়। শরীরের অন্যান্য স্থানে রক্তের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বেশির ভাগ ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় চিকিত্সা করলে ভালো হয়ে যায়। তবে পুনরায় হওয়ার আশঙ্কা রয়েই যায়। তাই দীর্ঘ সময় ধরে চিকিত্সা নিতে হয়।

এসব লক্ষণ দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। অনেক সময় টিউমার হলেও অসচেতনতার দরুণ সাধারণ মানুষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, সেটা ক্যানসারে পরিণত হয়ে যায় এবং সেখান থেকে বাঁচার উপায় থাকে না। টিউমার যে কোনো বয়সেই হতে পারে, যে কারো। যেসব কারণে এই টিউমারের ঝুঁকি বাড়ে, তার মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কতগুলো ইনহেরিটেড অবস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা নিউরোফাইব্রোমেটোসিস নামে পরিচিত। এছাড়াও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, যেমন—ভিনাইল ক্লোরাইড, এপস্টাইন-বার ভাইরাস, এবং আয়োনিত তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শও টিউমারের কারণ হতে পারে। এমনকি পরিবারে আগে কারো হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে ঐ পরিবারের কারো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ১০ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়ায়। তাই যদি কারো পরিবারে আগে কোনো একজনের টিউমার হয়ে থাকে, তাহলে তাদের প্রয়োজন সচেতনতার সঙ্গে চলাফেরা করা। কীভাবে টিউমার লাঘব করা যাবে, সেই সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া।

আগে থেকেই ব্রেইন টিউমারকে প্রতিরোধ করার কোনো উপায় নেই, যতক্ষণ না পর্যন্ত এটি নির্ণীত হচ্ছে। তবে মস্তিষ্ক সচল রাখার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ানোর জন্য কিছু নিয়ম মানতে হবে, যেমন—হঠাত্ করে উত্তেজিত হওয়া যাবে না, পরিস্থিতি মূল্যায়নে যথেষ্ট সময় নিতে হবে, যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিচার করতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, প্রচুর পানি পান করতে হবে, সব সময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করতে হবে, পরিমিত পরিমাণে ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে, কাজের ভেতর থাকতে হবে, এবং নিজেকে মানসিক চাপমুক্ত রাখতে হবে। আর এভাবেই মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগপ্রতিরোধক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। আতঙ্ক কিংবা ভয় নয়, সচেতনতা ও পরিমিত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমেই আমরা ঝুঁকিমুক্ত এবং সুস্থ থাকতে পারি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়