ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার
রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী বহনের কথা থাকলেও রাজিবপুর লঞ্চঘাটে এ আইন মানা হচ্ছে না। রাজিবপুর-চিলমারী, রাজিবপুর-বালাশি ও চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ট্রলারে যাত্রী পরিবহনে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বও। ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা বাড়ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় দুই মাস গণপরিবহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। গত মে থেকে সীমিত পরিসরে চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। তখন স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে নৌচলাচল করতে সরকারি নির্দেশনা জারি করা হয়। প্রথমদিকে কিছুটা এ নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনে যাত্রী পরিবহন করা হলেও বর্তমানে নৌপথে তা আর মানা হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজিবপুরে নৌপরিবহনগুলোতে সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। ঠিক আগের মতো নৌপরিবহনগুলোতে গাদাগাদি করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। এমনকি ছাদের ওপরেও যাত্রী নিচ্ছে তারা। নৌপরিবহনগুলোর আসন সংখ্যার বাইরেও ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ। এদিকে যাত্রীদের অধিকাংশের মুখে নেই কোনো মাস্ক। যাত্রী নূরুল আমিন বলেন, ‘সবাইকে তো যেতে হবে। তাই একটু কষ্ট করতে হবে। নদীর খোলা বাতাসে মাস্ক পরা হয়নি।’ এ সময় মাঝির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমরা নৌকার নির্দিষ্ট আসনের অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করতে চাই। কিন্তু যাত্রীরা তা মানতে চান না। তারা কোর্ট আছে, অফিস আছে, হাসপাতালে গুরুতর রোগী আছে—এরকম নানা অজুহাতে অনেকটাই জোর করে নৌকায় উঠে পড়েন।
রাজিবপুর ঘাটে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টিকিট বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা নৌকার মাঝিদের নির্দেশ দিয়েছি আসনের অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের।’ রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবীরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘাট জেলা পরিষদ ইজারা দিয়েছে, তারা এটার মালিক। আপনারা তাদের কাছে জানতে পারেন বিষয়টি। আমার এখানে কিছু করার নেই।’ কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য আজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, ‘জেলা পরিষদের ইজারা দেওয়া এ ঘাটের ব্যাপারে আমি আগামী মিটিংয়ে উত্থাপন করব। ঘাটগুলো যেন সঠিক নিয়মে চলে। এলাকার মানুষ ভোগান্তি থেকে যাতে মুক্তি পায়।’