বাদুড়তলায় বাদুড় নেই
কুমিল্লা প্রতিনিধি
নগরীর কেন্দ্রস্থল কান্দিরপাড়সংলগ্ন একটি অভিজাত এলাকার নাম ‘বাদুড়তলা’। এক সময় এ এলাকার গাছ-গাছালির ডালে ঝুলে থাকত ডানা মেলে উড়তে সক্ষম স্তন্যপায়ী হাজারো বাদুড়। ফলে এলাকাটি ‘বাদুড়তলা’ নামেই প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তবে এখন আর আগের মতো সেখানে তেমন গাছ-গাছালি নেই। সময়ের বিবর্তনে ঐ এলাকার আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে সুরম্য অট্টালিকা ও আবাসিক-বাণিজ্যিক স্থাপনা। তাই সেখানে এখন আর বাদুড়ের দেখা মেলে না। বাদুড়ের আহার ও আশ্রয়ের জায়গাগুলো দিনে দিনে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। তবে বাদুড়তলায় বাদুড়ের দেখা না মিললেও, দেখা মিলে নগরের সার্কিট হাউজ ভবনের আশপাশের গাছ-গাছালিতে। ঝাঁকে ঝাঁকে অসংখ্য বাদুড়ের ঝুলে থাকার দৃশ্য যে কারো নজর কেড়ে নেয়। তাদের শব্দে গোটা এলাকা মুখর হয়ে উঠে।
কুমিল্লা নাগরিক ফোরামের সভাপতি ও নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার বাসিন্দা মো. কামরুল আহসান বাবুল বলেন, এক সময় নগরীর ঐ এলাকাটি নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ভরপুর ছিল। সেখানকার উঁচু-নিচু গাছগুলোতে হাজার হাজার বাদুড় ঝুলে থাকার দৃশ্য ছোটবেলায় দেখেছি, এ দৃশ্য দেখার জন্য দূর-দূরান্তের মানুষজনও ভিড় জমাত—যা আজও স্মৃতিতে ভেসে বেড়ায়। বাদুড়ের অভয়ারণ্য হওয়ায় এলাকাটি ‘বাদুড়তলা’ হিসেবে নামকরণ হয়ে যায়। কিন্তু এখন আর সেখানে গাছ-গাছালি তেমন নেই, তাই বাদুড়ও নেই। ঐ এলাকায় এখন গড়ে উঠেছে আধুনিক মানের সারি সারি বহুতল ভবন। তবে এখন বাদুড়ের দেখা মিলছে গাছ-গাছালিতে ঘেরা সার্কিট হাউজ এলাকায়। এখানে গাছের ডালে ডালে হাজারো বাদুড়ের ঝুলে থাকার দৃশ্য যে কারো মন জুড়িয়ে যায়।’