কোপা আমেরিকা
স্পোর্টস রিপোর্টার
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল) ঘোষণা করে দিয়েছে, ব্রাজিলে শুরু হতে যাওয়া কোপা আমেরিকা ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগিতক ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলা মুখোমুখি হবে। ১৩ জুন খেলা শুরু হবে। উদ্বোধনী ম্যাচ মানে গ্যারিঞ্চা স্টেডিয়ামে হবে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের এই লড়াই বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উত্তেজনা ছড়ায়। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলারদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর আসরটি অনেকটাই তাদের কাছে বিশ্বকাপের মতোই। প্রতিবার নিয়মিত হলেও এবার করোনার কারণে কোপা আমেরিকা নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা ছিল। ইউরোপিয়ান ফুটবল যেভাবে দাপটের মধ্যে হয়ে গেছে, তাতে কনমেবল ভীষণ উত্সাহ পেয়েছে।
কোপা ১০৫ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম দুই দেশের যৌথ আয়োজনে হওয়ার কথা থাকলেও কলম্বিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে এবং আর্জেন্টিনায় করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি খুব খারাপের দিকে যাওয়ায় তারা নিজেরাই টুর্নামেন্ট আয়োজনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আর তা ছাড়া কনমেবল ভেবে দেখেছে, পরিস্থিতি শিগগির ভালো হওয়ার মতো নয়। আর অন্যদিকে ব্রাজিলও যেন ওত পেতে ছিল। কেউ ছেড়ে দিলেই তারা টুর্নামেন্টটি লুফে নেবে। হয়েছেও তাই। আয়োজক তালিকা থেকে ম্যারাডোনার দেশ আর্জেন্টিনাকে বাদ দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টানার মধ্যেই ব্রাজিলের নাম ঘোষণা করা হয়। অথচ ব্রাজিলও করোনার কারণে আতঙ্কমুক্ত হয়নি। আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ, মৃত্যু প্রায় ৩ হাজার। এমন পরিস্থিতিতে এত বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। সব কিছুই ঠিকঠাক। ফিকশ্চারও ঘোষণা হয়ে গেছে। এরই মধ্যে ব্রাজিলের ফুটবলাররা কোপায় খেলতে রাজি না এমন কথা ফুটবল বিশ্বে ডালপালা ছাড়চ্ছে। খেলোয়াড়রাই নাকি কোপার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
শনিবার ইকুয়েডরকে হারানোর পর ব্রাজিলের অধিনায়ক কাসেমিরো বলেছেন, ‘ব্রাজিলে কোপা হওয়া নিয়ে আমাদের অবস্থান সবাই জানে। তবে এখনও পুরোটা পরিষ্কার নয়। ৮ জুন প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর আমরা সবাই নিজেদের মত জানিয়ে দেব। তবে শুধু আমি নই, কোচ তিতে-সহ প্রত্যেকে কোপার বিরোধিতা করছে। কোপা আয়োজনের বিরোধিতা করে ইকুয়েডর ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে যাননি কাসেমিরো।
ম্যাচের আগে কোচ তিতে জানিয়েছেন, ব্রাজিল ফুটবল সংস্থার সভাপতি রজারিয়ো কাবোকলোর সঙ্গে কথা বলবেন ফুটবলাররা। সেখানেই নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করা হবে। তিতের কথায়, ফুটবলারদের অভিমত খুব স্পষ্ট। আমরা সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নিয়ে ফেলেছি। কিন্তু সেটা এখন জানাব না।’ ব্রাজিলের সাধারণ মানুষের মধ্যেও শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বামপন্থী নেতা লুলা দা সিলভা কোপা আয়োজনের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছেন। সেখানে এখনও শুনানি হয়নি। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট বসতে যাচ্ছে পেলের দেশ ব্রাজিলে। ভেনেজুয়েলা ছাড়াও ‘বি’ গ্রুপে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, একুয়েডর ও পেরু। আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে ১৪ জনু। প্রথম প্রতিপক্ষ চিলি। খেলা হবে রিও ডি জেনেরিওর সান্তোস স্টেডিয়ামে। আর্জেন্টিনার অন্য প্রতিপক্ষ বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে।
আগামী ৫ জুলাই সান্তোস স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনাল। পরের দিন মানে ব্রাসিলিয়ায় গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। ১০ জুলাই ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম মারাকানায় হবে ফাইনাল। ফুটবলের বহু ইতিহাস জড়িয়ে আছে যেখানে, সেই মাঠে কোপার একটি ম্যাচ হবে, সেটি ফাইনাল। ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক হওয়ায় এই স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। এই মাঠেই পেলে শততম গোলের রেকর্ড করেন। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল হয়েছিল। ২০১৬ সালে অলিম্পিক ফুটবল ফাইনাল হয়।