সম্পূরক বাজেট নিয়ে সংসদে যে আলোচনা হয় তা অনেকটা অর্থহীন ---------------- জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, সম্পূরক বাজেট নিয়ে সংসদে যে আলোচনা তা অনেকটা অর্থহীন। কেউ প্রাসঙ্গিক কথাও বলেন না, জবাবদিহিতা এখানে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি নিয়ম রক্ষার জন্য হয়। এখান থেকে জনগণের কোনো লাভ হয় বলে মনে হয় না। গতকাল সোমবার সংসদে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, বিদায়ী অর্থবছরে কোন খাত বরাদ্দের অর্থ খরচ করতে পারেনি, আর কোন খাতে আরও অর্থ লেগেছে, দুটোই মূল্যায়ন করে দেখা দরকার। বাজেটে কম বা বেশি খরচ দুটোকেই  অস্বাভাবিক বলতে হবে। বৃদ্ধির প্রস্তাব হলে সেখানে দুর্নীতি রয়েছে কি-না বা বাজেট যারা প্রণয়ন করেছে তাদের ত্রুটি ছিল কি-না, সেটা দেখা দরকার। অপরদিকে পরিকল্পিতভাবে খরচ কমানোকে মিতব্যয়ী বলতে পারি। কিন্তু খরচ করতে না পারাকে অদক্ষতা বলতে হবে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, করোনাভাইরাসের টিকা কোত্থেকে কীভাবে আসবে, তার কেবল আশার বাণী শুনতে পাচ্ছি। নিশ্চিতভাবে কবে কোথা থেকে আসবে সেই তথ্য পাচ্ছি না। সরকারের এই বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। টিকা দিয়ে বিভিন্ন দেশ যখন স্বাভাবিক জীবন-যাপনের দিকে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে সরকার টিকা প্রদানে যে পরিকল্পনার কথা বলেছে, তাতে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে একডোজ টিকা দিতে ৫ বছর লাগবে। দুই ডোজ দিতে ১০ বছর লাগবে। এই পরিকল্পনায় এগুলে ১০ বছরে দেশের অর্থনীতি কী হবে তা বুঝতে পারছি না।

স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, আমি মনে করি স্বাস্থ্যখাতে কমপক্ষে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দরকার। স্বাস্থ্যখাত শক্তিশালী হলে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণ হলে আমাদের অর্থনীতি চাঙা হবে। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি নিয়ে তিনি বলেন, যাদের ধরা হয়েছে, মামলা হয়েছে তাদের কোনো শাস্তি হয়েছে এমনটা দেখা যায় না। কোনো না কোনো ফাঁক দিয়ে তারা বের হয়ে যাচ্ছে। তারা পুকুর চুরি করে বের হয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, আমরা চাই আইনের শাসন থাকুক। কেউ অপরাধ করলে শাস্তি হোক। কিন্তু যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন তাদের কিছু দায়িত্ব থাকে। সাংবাদিকতা পিলার অব দ্য স্টেট। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করে।