অর্থের লোভে জেল খাটা মিনুকে মুক্তির নির্দেশ

অর্থের লোভ দেখিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য পাঠানো হয়েছিলো কারাগারে। কিন্তু কারাভোগকারী মিনু জানতেন না যে তাকে যাবজ্জীবন সাজার মামলায় তিন বছর ধরে জেলে থাকতে হবে। এমতাবস্থায় বিষয়টি জেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন তিনি। তার বক্তব্য শুনে তা চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারককে অবহিত করে জেল কর্তৃপক্ষ। এই আদালত একটি হত্যা মামলায় মূল আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছিল। কুলসুমীর পরিবর্তে অর্থের লোভ দেখিয়ে মিনু বেগমকে আত্মসমর্পণ করিয়ে তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। গতকাল সোমবার সেই মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ  দেন। একই সঙ্গে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পিপি এম এ নাসের,     আইনজীবী নূরুল আনোয়ার ও বিবেকানন্দ চৌধুরী এবং আইনজীবীর সহকারী সৌরভকে তলব করেছে আদালত। এছাড়া প্রকৃত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুমকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

হাইকোর্ট বলেছে, প্রকৃত আসামির পরিবর্তে জেলে গিয়ে মিনু যে অন্যায় করেনি এটাও বলা যাবে না। এ ধরনের ঘটনা বেশি করে মিডিয়াতে আসা উচিত। যাতে জনমনে সচেতনতা সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। কিন্তু তার পরিবর্তে জেল খাটছেন মিনু বেগম। বিষয়টি গত মার্চ মাসে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারকের নজরে আনেন সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান। পরে মিনুকে আদালতে হাজির করে তার বক্তব্য রেকর্ড করে আদালত। কিন্তু যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে আপিল উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত কোন আদেশ না দিয়ে নথি সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়ে দেন। পরে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মো. শিশির মনির।