আন্তর্জাতিক মহলে দেশের শিশুদের কণ্ঠস্বর আরিফ

>> জুনাইদ আল হাবিব

 

৭১৩টি শিশুর বাল্যবিবাহ বন্ধ করে রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের শিশু অধিকারকর্মী আরিফ। ঝুলিতে জমা হয়েছে ইউনিসেফ, সেভ দ্য চিলড্রেনস পদক। জাতিসংঘ ৭৫ পোস্টারে স্থান পেয়েছে তার ছবি!  শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায়, তাদের না বলা কথা, সমস্যা-সম্ভাবনা প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনফারেন্সে অংশ নিয়ে।

শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত জায়গা থেকেও শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। স্কুল জীবনে গণমাধ্যমের গন্ডিতে পা রাখেন তিনি। যোগ দেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনে। কাজ করেন আরো জনপ্রিয় কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। আয়ের একটা অংশ দিয়ে ১৭ জন অস্বচ্ছল পড়ুয়ার পড়াশোনায় এগিয়ে এসেছেন তিনি। তার পুরো নাম আরিফ রহমান শিবলী। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জে। ঢাকায় জন্ম এবং ঢাকাতেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক স্কুল থেকে এসএসসি, গুলশান কলেজ থেকে এইচএসসি ও ঢাকা তেজগাঁও কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জনপ্রিয় রক ব্যান্ড লিংকিন পার্ক নিয়ে আরিফের তৈরি করা বায়োগ্রাফি ব্যান্ডটির সদস্যদের নজরে আসে। তাকে নিয়ে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন ব্যান্ডটির র্যাপ ভোকাল মাইক সিনোডা। শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা সরকারের বিভিন্ন ইভেন্টে অতীতে অংশ নিয়েছেন আরিফ। পেয়েছেন ‘ইউনাইটেড ভয়েজ অব বাংলাদেশ চিলড্রেন্স’ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি, পরিচিতি। গত বছর ২০ নভেম্বর কানাডা সরকার তাদের শিশু দিবসে সম্মান প্রদর্শন করেন এ বাংলাদেশী তরুণকে।

‘চাইল্ড ম্যাসেজে’ প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন রয়টার্সের সাবেক সংবাদকর্মী কার্লোস, বার্তা সম্পাদক আরেক ব্রিটিশ সাংবাদিক এলিস্টার ব্রিংটন। পিআর হিসেবে কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ান এবিসি কিডস টিভি গণমাধ্যমে অতীতে কাজ করা লিও রিন্ডা। আর সেখানে বাংলাদেশি আরিফ রহমান শিবলী আছেন নির্বাহী প্রধান হিসেবে!

৭১৩টি বাল্যবিয়ে  ঠেকানো প্রসঙ্গে আরিফ বলেন, ‘দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আমার ফেসবুক বন্ধুরা আছেন। তারা বিভিন্ন সময় আমাকে তথ্য দিতেন। নাম, ঠিকানা, কীসে পড়ে—এভাবে তথ্যগুলো দিলে আমি প্রশাসনিকভাবে কাজ করতাম। দেখা গেছে একই দিনে একই এলাকাতে ৭-৮টি বাল্যবিয়েও ঠেকানো হয়েছে।’ শিশুদের সুরক্ষায় আমাদের করণীয় কী হতে পারে? জানতে চাইলে আরিফ বলেন, ‘শিশুদের সুরক্ষার জন্য ওদেরকে আগে বুঝতে হবে—ওরা কী চাচ্ছে? ওদের কথা বলার প্ল্যাটফর্ম দিতে হবে, গণমাধ্যমসহ সবাইকে এ বিষয়কে সচেতন হতে হবে। সবাই সচেতন হলে ওদের জন্য অবশ্যই কিছু করা সম্ভব। তাছাড়া সরকার চাইলে, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থাগুলো এক প্ল্যাটফর্মে এটা নিয়ে কাজ করতে পারে।’