‘তারকা কাকে বলছি, সেটাও আমাদের ভাবতে হবে’

ছোটপর্দা দিয়ে যাত্রা শুরু করা রাশেদ মামুন অপু’র ঝুলিতে এরইমধ্যে ডজনখানেক চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। পাশাপাশি ওয়েব সিরিজেও চলছে তার সফল পদচারণা। সমমাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

 

সাম্প্রতিক কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই—

বর্তমানে ওয়েব ফিল্ম, নাটক সিনেমার কাজ করছি। এই মাসেই ‘কসাই টু’র কাজ শুরু করবো। এছাড়া ‘অমানুষ’ ‘দামাল’, যাও পাখি বলো তারে’, ড্রাকসাইড’সহ বেশ কয়েকটি ছবির কাজ শেষ করলাম। পাশাপশি ঈদের নাটকের কাজ চলছে।

ছোটপর্দার পজিটিভ চরিত্রের অভিনেতা বড়পর্দায় ভিলেন। কেন এই ইমেজ পরিবর্তন?

আসলে আমি নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করে অনেক মজা পাই এবং বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এখানে নিজেকে ভাঙা-গড়ার সুযোগ থাকে। তাছাড়া আমাদের চলচ্চিত্রে চরিত্রাভিনেতাদের জায়গাগুলো উন্নত হয়নি। সেই জায়গা থেকে চরিত্রটি বেছে নেওয়া।

চরিত্রাভিনেতাদের অবস্থান তৈরি না হওয়ার নেপথ্যের কারণ হিসেবে কী বলবেন?

আমি তো চলচ্চিত্রে নতুন, তাই এই বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে পারছি না। তবে নাটকে বাজেট স্বল্পতার কারণে অনেক চরিত্র ছেঁটে ফেলতে হয়। এটার অনেক বড় একটি কারণ।

চলচ্চিত্রের এই সংকটে ভিলেন অপু কতটা নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে?

আমি চলচ্চিত্রে তো সবে যাত্রা শুরু করেছি। তাই আমি সেভাবে আসলে ভাবছি না। প্রতিটি গল্পে ভিন্ন ভিন্নরূপে নিজেকে উপস্থাপন করছি। বলতে পারেন, মনের আনন্দে কাজ করে যেতে চাই।

সাম্প্রতিক সময়ে যেমন নাটক নির্মাণ বেড়েছে তেমনি মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে কী বলবেন?

কাজ বাড়লে সেখানে কিছু মানহীন কাজ থাকবেই। এটা আগেও ছিল। কিন্তু আমরা ভালো কাজগুলোকেই মনে রেখেছি। এখনো কিন্তু অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে।

কিন্তু অনেকেই বলছেন, নাটকের বাজেট কমা এবং বাণিজ্যক বা কর্পোরেট জগতের মানুষের হাতে চলে যাওয়ায় মানহীন কাজ বেশি হচ্ছে!

এটা সত্য। এখন নাটক মার্কেটিং, হিসেব-নিকেষ ও ভিউয়ের কাছে চলে গেছে। আপাতত নাটকে শিল্পের কোনো স্থান নেই। পুরোই বাণিজ্যিক একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

টিভি নাটকের প্রতি দর্শক অনিহা তৈরিতে মানহীন কাজকে দায়ী করা হয়। আপনি কাকে দায়ী করবেন?

না, এর জন্য আমি মানহীন কাজকে দায়ী করবো না। পুরো সিস্টেমকে দায়ী করবো। কারণ আগে নাটক দেখানো হতো, কিন্তু এখন বিজ্ঞাপনের ফাঁকে নাটক দেখানো হয়। তারা মনে করেন বিজ্ঞাপনই চ্যানেলকে টিকিয়ে রাখবে। এখন বিজ্ঞাপনই মুখ্য, নাটক সেখানে সহায়ক শক্তি।

ভিউ গুণে স্টার ও নাটকের মান নির্ধারণের যে চর্চার চলছে, সেটাকে কীভাবে দেখছেন?

ভিউ যে নাটকের হচ্ছে সেগুলো খুব খারাপ হচ্ছে তা কিন্তু না। তবে আমরা তো হুজুগে জাতি। ফলে খারাপ কাজও ভিউ পাচ্ছে।

অনেক শিল্পী-নির্মাতাই নিজেস্ব ঘরানার বাইরে কাজ করতে চান না। এই চর্চা নতুন তারকা তৈরিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন না?

নতুন তারকা তৈরিতে একটু প্রভাব তো পড়ছেই। তবে তৈরি যে হচ্ছে না, তা কিন্তু না। তারকা কাকে বলছি সেটাও আমাদের ভাবতে হবে। তথা কথিত তারকা কিন্তু প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে, আবার ঝরেও যাচ্ছে। আর স্বাচ্ছন্দ্যবোধের জায়গা থেকে নিজের ঘরানায় কেউ কাজ করতেই পারেন।

ওটিটি মাধ্যমটিকে কেউ আশীর্বাদ, আবার কেউ সংস্কৃতি ধ্বংসের কারণ বলছেন। আপনি এই মাধ্যমটিকে কীভাবে দেখছেন?

আমি মনে করি এটা আমাদের শোবিজে জন্য বিরাট এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এক সময় অশ্লীলতা দিয়ে চলচ্চিত্রকে শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর যখন বিশ্বে আমরা নাটক দিয়ে অবস্থা তৈরি করলাম সেখানেও করাল এক থাবা বসানো হলো। শিল্পমানকে তলানিতে ঠেকানো হলো। এখন ওটিটি নিয়ে পড়ছে। যখন ওটিটি শিল্পী-নির্মাতাদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে, এখানে কন্টেন্ট কথা বলে, কে আর্টিস্ট, কে নির্মাতা এটা মুখ্য না, ঠিক তখনই সমালোচনা চলছে। সমালোচনা না করে এটাকে স্বাগত জানানো উচিত।

কিন্তু এখনো নিজেস্ব কোনো প্লাটফর্ম অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। এর কারণ কী বলে মনে করেন?

একটি নতুম মাধ্যম এলে সেটাকে বোঝার সময় দিতে হবে। তাছাড়া এই মাধ্যমটির যাত্রা শুরু থেকেই করোনা সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। তবে শিগগিরই আমরা ভালো একটা অবস্থানে যাবো।