সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
ডিএনডি প্রকল্পের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন কাজের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারদের বিনিয়োগ করা অর্থ পরিশোধ না করায় চলমান কাজ তারা বন্ধ করে দিয়েছে। হঠাত্ থমকে গেছে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গত তিন বছর ধরে চলছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পটির (দ্বিতীয় পর্যায়) কাজ। বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের প্রাপ্তি বিল পরিশোধ করতে না পারায় চলমান অধিকাংশ কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক ঠিকাদারদের প্রাপ্তি বিল পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। এদিকে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার নিচু এলাকা। ঠিকাদাররা কাজ না করায় ডিএনডির ২০ লাখ মানুষ ভয়াবহ জলাদ্ধতার আশঙ্কা করছে।
জানা যায়, ডিএনডির প্রায় ২২ লাখ বাসিন্দার দুই যুগের কৃত্রিম জলাবদ্ধতা আর অবর্ণনীয় দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করতে সরকার ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (২য় পর্যায়)’ প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেক সভায় ৫৫৮ কোটি টাকার এই প্রকল্প পাশ হওয়ার খবরে নারায়ণগঞ্জ-৪ নির্বাচনি এলাকার সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, ঢাকা-৪ নির্বাচনি এলাকার ডেমরা, দনিয়া, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া এবং ঢাকা-৫ নির্বাচনি এলাকার শ্যামপুর এলাকায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রায় তিন বছর ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় ডিএনডির পুনঃ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) অনুমোদিত হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১২৯৯৯১ দশমিক ১৭ লাখ টাকা। মেয়াদ জুন ২০২৩ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৩৫০৬১ দশমিক ৬০ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হলেও এডিপি অনুযায়ী প্রকল্পের অনুকূলে ৬০০০.০০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ দেওয়া অর্থ চার কিস্তিতে ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের অবশিষ্ট ২৯০৬১ দশমিক ৬০ লাখ টাকা ছাড় চেয়ে প্রকল্প পরিচালক আবেদন করেছেন।