২৩ বছরেও খুঁজে পাওয়া যায়নি ধর্ষণ মামলার দণ্ডিত আসামিকে

দেশে অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে সরকার আইনে সংশোধন এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করেছে। কিন্তু এর পরেও কমছে না ধর্ষণ। বিভিন্নভাবে নারী ও শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার শিকার হচ্ছেন সংঘবদ্ধ ধর্ষণেরও। এমনকি ধর্ষণ শেষে হত্যারও শিকার হচ্ছেন অনেকে। এমতাবস্থায় শিশু ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে ২৩ বছরেও গ্রেফতার করা যায়নি। বিচারের শুরু থেকেই আছেন পলাতক। তার অনুপস্থিতিতে আপিল মামলার বিচারের রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত যাবজ্জীবন সাজার রায় বহাল রেখেছে।

আদালত বলেছে, সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হলো কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর তার বিচার হওয়া। অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীর বিচার হবে না এরকম পরিস্থিতির যেন সৃষ্টি না হয়। সেজন্য যে কোনো অপরাধের বিচারকেই বড় করে দেখা হয়। বিচারহীনতা যেন না থাকে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার শিশু ধর্ষণের মামলায় এই মন্তব্য করেন।

১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে নেত্রকোনার মদনে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেন হুমায়ুন কবির ওরফে রজত। ঐ সময় আসামির বয়স ছিল ২৪ বছর। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা থানায় মামলা করলে শুরু থেকেই পলাতক আসামি রজত। ২০০২ সালে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে আসামির মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০০৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বয়স বিবেচনায় আসামির সাজা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিলে আসামির মৃত্যুদণ্ড বহালের আবেদন জানানো হয়। পনেরো বছর পর ঐ আপিল শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আনেন প্রধান বিচারপতি।

গতকাল আপিল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) বিশ্বজিত দেবনাথ বলেন, পাঁচ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণ করেছেন এই আসামি। এর চেয়ে জঘন্য আর কি হতে পারে। আদালত বলেন, ঘটনার সময় আসামির বয়স তো দেখছি ২৪/২৫ বছর। বয়স কম হলে এবং পূর্ববর্তী কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকলে সেক্ষেত্রে সাজা কমানোর বিষয়ে আপিল বিভাগের বেশ কিছু রায় রয়েছে। তবে সমাজে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে। সাজা হ্রাসের বিষয়টি নিয়ে এখন নতুন করে চিন্তাভাবনার সময় এসেছে।

এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, যে কোনো অপরাধে বিচার হতেই হবে। আসামির দোষী সাব্যস্তকরণ নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নাই। শুধু সাজা আরোপ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের সোশ্যাল কনটেক্সট (সামাজিক পরিস্থিতি) খুবই খারাপ। যে কোনো বয়সের নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। এটা ভাবিয়ে তোলার মতো। এরপরই আপিল বিভাগের সকল বিচারপতি রাষ্ট্রপক্ষের সাজা বৃদ্ধির আপিল খারিজ করে দেন। আদালত বলে, গ্রেফতার  বা আত্মসমর্পণের পর থেকেই আসামির দণ্ড কার্যকর হবে।