মোবাইল অপারেটরদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন ধরনের কর কাঠামো পরিবর্তন করে বছরে সরকারের রাজস্ব হাজার কোটি টাকা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করে মোবাইল ফোন অপারেটররা। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সিমের ওপর আরোপিত ২০০ টাকার কর প্রত্যাহারসহ কোনো সুপারিশই মূল্যায়ন করা হয়নি বলে জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব। গতকাল মঙ্গলবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে টেলিযোগাযোগ খাতের সুপারিশগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। অ্যামটব মহাসচিব এস এম ফরহাদ বলেন, ‘মোবাইল ফোনের সিমের কর বিলুপ্ত এবং মুনাফা না হলেও এই খাতে ২ শতাংশ হারে যে টার্নওভার কর ধরা আছে তাও প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।’
ফরহাদ বলেন, মোবাইল অপারেটরদের পক্ষ থেকে দেওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব ছিল উচ্চ করপোরেট করের হারকে যৌক্তিক এবং সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত (বর্তমান ৪০%) ও তালিকাভুক্ত নয় (বর্তমান ৪৫%) এমন অপারেটরদের কর যথাক্রমে ২৫% ও ৩২% এ নামিয়ে আনা। সরাসরি অপারেটর বিলিং থেকে পরিপূরক শুল্ক ও সারচার্জ প্রত্যাহার এবং সব ‘ইনট্যাঞ্জিবল’ সম্পদের ওপর ‘এমোরটাইজেশন’ সুবিধা দেওয়া। প্রতি ১০০ টাকা টক টাইমের ওপর এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর ৩৩.২৫ শতাংশ ও ২১.৭৫ শতাংশ ভ্যাট, এসডি ও সারচার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছিল অ্যামটব।
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, সরকার এ খাত থেকে বছরে ১৬ হাজার কোটি টাকার মতো রাজস্ব পেয়ে থাকে, অপারেটরদের প্রস্তাবগুলো আমলে নিলে আনুমানিক ১ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব পেত। তিনি বলেন, আমাদের দাবিগুলো সামগ্রিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে উত্থাপন করা সত্ত্বেও একটি শিল্প হিসেবে প্রতি বাজেটেই আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। সরকারকে অনুরোধ করব এই খাতের কর কাঠামো নিয়ে একটি বিশদ গবেষণা পরিচালনা করার। গ্রামীণফোনের ডিরেক্টর ও হেড অব পাবলিক অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত বলেন, আমাদের বিশ্বাস, কর ব্যবস্থাকে যৌক্তিক পর্যায়ে ঢেলে সাজালে ডিজিটাল যাত্রা আরো গতিশীল হবে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আমাদের অবদান আরো সমৃদ্ধ হবে। বাংলালিংক এর চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, আমরা এখনো আশাবাদী যে, কর্তৃপক্ষ এমন একটি কাঠামো তৈরি করবে, যা গ্রাহকদের সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত ডিজিটাল সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।