রসনা
উচ্ছে, করলা মানুষ কেন খায় কিছুতেই বোধগম্য ছিল না সেই ছোট্টবেলায়। একটা সময় ভালোবাসার মিষ্টিকেও ছাড়তে হলো, তার পরিবর্তে মিতালি গড়তে হলো তেতোর সঙ্গে। ততদিনে বুঝে গেছি মিষ্টিতে অকাতরে ডুবে থাকায় জীবনে ভোগান্তি আছে বিস্তর। তেতো তেতো বলেই ওর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সবিশেষ জ্ঞাত থাকে সবাই। তাই তো তেতোর অনিষ্ট করার কোনো মতলব নেই, বরং আছে উপকার করার অসীম ক্ষমতা। আরো বুঝেছি তেতোর সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি দেখা হয় জীবনে, যতই পাশ কাটাতে চাই না কেন তেতো ওষুধই কিন্তু রোগ সারায়, জীবন বাঁচায়। সমাজের তেতো কটূক্তির ভয়েই মানুষ সংযত থাকে।
তেতোকে এড়ানো যায় না, আমরা যেটা পারি তাহলো তেতোকে কী করে উপাদেয় করা যায় সে কৌশল রপ্ত করতে। করলার কথা বলি। খাবারের শুরুতেই পাতে তুলে নিতে হয় করলা ভাজি। বড় মাছের মুড়ো বা ছোট মাছের সঙ্গে চচ্চড়ি রান্না করলে তেতো করলা বেশ উপাদেয় খেতে। আর করলার ঝোলও অনেকের পছন্দ। করলায় করোনা দূর হয় এমন গুজব উঠেছিল গত বছর, আদোতে ধোপে টেকেনি সে কথা। কিন্তু করলা খেলে ক্লান্তি দূর হয়, দূর হয় বিষণ্নতা। তাই তেতোকে উপাদেয় করার, সহনীয় করার উপায় বের করে তেতোর সঙ্গেও মিতালি গড়তে হয় শেষমেশ। শেষে করলা রান্নার একটি ছোট্ট টিপস বলি—এটি আমি আমার নানুর কাছে শিখেছিলাম। টিপসটি হলো তেতো বেশি ঘাঁটাতে হয় না। তাহলে তেতো বেড়ে যায়, অল্প নাড়াচাড়া করেই নামিয়ে ফেলতে হয়। নানু কিন্তু করলা শাক দিয়ে বোম্বাই মরিচ যোগে দারুণ ঘন একটা ডাল রান্না করতেন, করলা শাক ভেজেও খাওয়া যায়। করলার বিচির ভর্তাও খুব সুস্বাদু। যদিও বীজ থেকে শাঁস বের করে ভেজে ভর্তার নিয়মে ভর্তা করতে হয়। একান্ত ভোজনরসিক ছাড়া এত কষ্ট স্বীকার করে কেউ করলার বিচি ভর্তা খেতে চাইবেন বলে আমার মনে হয় না।
সুপ্তি জামান