কোভিড সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউতে বিপর্যস্ত ভারত। হাসপাতালে রোগীরা জায়গা পাননি। মৃতদের দাহ করার জায়গা মেলেনি শ্মশানে। কোভিডের উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও মৃত্যুর আগে শত শত রোগীর কোনো চিকিত্সা তো দূরের কথা, পরীক্ষা পর্যন্ত হয়নি। ঘরের ভেতরেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এসব মৃত্যু সরকারি তালিকাতেও জায়গা পায়নি। ভারতে বিশেষজ্ঞরা জোরের সঙ্গেই বলছেন, সরকার কোভিডে মৃত্যুর যে হিসাব দিচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ, বিশেষ করে, দেশের গ্রামাঞ্চলে মারা গেছে।
বিবিসির সংবাদদাতারা তাদের অনুসন্ধানের জন্য প্রথম যে গ্রামটিতে যান তার নাম কৌশল্যা। দিল্লি থেকে ১০০ কিলোমিটারের মতো দূরের এই গ্রাম থেকে প্রচুর মৃত্যুর খবর জানা গেছে। কৌশল্যা গ্রামের সমাজকর্মী মুস্তাফিজ খান কাগজে হাতে লেখা একটি লিস্ট দেখিয়ে বলেন, সরকার যা বলছে তাদের গ্রামে মৃত্যুর সংখ্যা তার কয়েক গুণ বেশি। গ্রামের বাসিন্দা শফিক আহমেদ, যিনি পেশায় একজন আইনজীবী তিনি জানান, ঐ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ হয় দিনমজুর, না হয় কৃষক বা কৃষি-শ্রমিক। ফলে খুব কম লোকেই শহরে গিয়ে কোনো কোভিডের পরীক্ষা করিয়েছেন। খবর বিবিসি বাংলার।
কৌশল্যার পরে কানৌজা নামে উত্তর প্রদেশের আরেকটি গ্রামে গিয়েছিলেন বিবিসির সংবাদদাতারা। একই কাহিনি সেখানেও। বহু মানুষ কোভিডের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। কিন্তু তাদের পরীক্ষা হয়নি, চিকিত্সা হয়নি। কানৌজা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য উমেশ শর্মা একটি খাতা বের করেন, যাতে তার গ্রামের কোভিডে মৃতদের নাম লেখা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এদের মধ্যে এক বা বড়োজোর দুই জনের নাম সরকারি হিসাবের মধ্যে গেছে, বাকি ৩০-৫৫ জনের কোনো হিসাব নেই।’
উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ শহরের কাছে গঙ্গার তীরে শত শত নতুন কবরের সারি দেখা গেছে। দাহ করার জন্য শ্মশানে জায়গা হয়নি বলে মানুষজন মৃত স্বজনদের এখানে এনে মাটি চাপা দিয়ে চলে গেছেন। কবর দেওয়ার এসব ঘটনা ঘটেছে প্রধানত এপ্রিল মাসে। স্থানীয় অনেক মানুষ এবং সাংবাদিকরা বলেন, এবছর এই কবর দেওয়ার সংখ্যা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি।
এলাহাবাদের কাছে মেনডারা গ্রামের পঞ্চায়েতপ্রধান বিবিসিকে জানান, তার গ্রামে ডজন ডজন মানুষ কোভিডের লক্ষণ নিয়ে বিনা চিকিত্সায় মারা গেছে। মহেশ্বর কুমার সোনি বলেন, মৃত এসব রোগীর কখনো কোভিডের পরীক্ষাও হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামে এই হারে মৃত্যু আমরা জীবনেও দেখিনি। আমি সত্যিই ভয় পেয়েছিলাম।’