হাইকোর্টের জাল জামিনাদেশ তৈরিতে দুই আইনজীবীসহ চার জন জড়িত

হাইকোর্টের জাল জামিনাদেশ তৈরিতে অধস্তন আদালতের দুই আইনজীবীসহ চার জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। এর মধ্যে এক জন অ্যাডভোকেট তানজিম আল মিসবাহ বগুড়া জজ কোর্ট এবং অপর জন অ্যাডভোকেট রাজু আহমেদ ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী। বাকি দুই জনের এক জন আইনজীবীর সহকারী। যার নাম মো. সোহাগ। অপর জন কম্পিউটার অপারেটর মো. মাসুদ রানা। হাইকোর্টের নির্দেশে অনুসন্ধান করে বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল বুধবার এই রিপোর্ট দাখিল করা হয়। ঐ রিপোর্টে বলা হয়েছে, কাল্পনিকভাবে নথি তৈরি করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের উচ্চ আদালতের আগাম জামিনাদেশ সৃজন করেছেন অভিযুক্তরা।

পরে আদালতে সিআইডির দাখিলকৃত অনুসন্ধান প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারান্নুম রাবেয়া। তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ জাল করার ঘটনায় শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় অভিযুক্ত চার জনের মধ্যে আইনজীবীর সহকারী মো. সোহাগকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এই আসামি। এখন তিনি জেলহাজতে আছেন। তবে বাকি আসামিরা গ্রেফতার হননি। পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজনের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় নয়। একই সঙ্গে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঐদিন তদন্ত কর্মকর্তাকেও আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বগুড়ায় মোটর মালিক গ্রুপের অফিস দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের হয় একাধিক মামলা। এর মধ্যে একটি মামলায় ৩০ আসামি হাইকোর্টের আগাম জামিনের জাল আদেশ প্রস্তুত করে দাখিল করেন বগুড়া সদর থানা পুলিশের কাছে। সেই জাল আদেশবলে আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায়ও ঘুরে বেড়ান। দেন মহড়াও। এ নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হলে এক আইনজীবীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে খোঁজ নেন। এর পরই জাল জামিনাদেশ প্রস্তুতের বিষয়টি প্রকাশ পায়।