রুবি তার মামার রুমে গিয়ে আপেলের মতো একটি বস্তু দেখতে পেল। তার ভীষণ কৌতূহল হলো জিনিসটি দেখে। সে তার মামাকে জিজ্ঞেস করল, ‘মামা, এটা কী?’ ‘এটা একটা মাটির ব্যাংক। এখানে টাকা জমানো হয়।’ রুবি তার গত জন্মদিনে অনেকগুলো টাকা উপহার হিসেবে পেয়েছে। যেগুলো সে তার মাকে দিয়ে দিয়েছে। হঠাত্ তার মনে হলো এমন একটা মাটির ব্যাংক তার থাকলে তো সে নিজেই টাকাটা জমাতে পারত। পরের দিন রুবি তার বাবার কাছে একটা ব্যাংকের জন্য বায়না করল। অফিস থেকে আসার সময় রুবির বাবা তার জন্য বিশাল একটা মাটির ব্যাংক কিনে আনলেন। এমন সুন্দর ব্যাংক পেয়ে রুবি ভীষণ খুশি। এরপর থেকে সে বিভিন্ন সময়ে বাবা থেকে, মামা থেকে, চাচ্চু থেকে পাওয়া টাকাগুলো মাকে না দিয়ে নিজেই ব্যাংকে জমাতে শুরু করল। কয়েক মাসের মধ্যে তার ব্যাংকে অনেকগুলো টাকা জমে গেল। সে তার প্রিয় বন্ধু রাফসানের জন্মদিনে ঐ ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে একটা উপহার কিনে দিল। রাফসান যখন জানতে পারল, উপহার কেনার টাকাটা রুবির নিজের, যেটা সে বাবার দেওয়া মাটির ব্যাংকে জমিয়েছে। রাফসানও তখন থেকে রুবির মতো টাকা জমাতে শুরু করল। রাফসান ও রুবির টাকা জমানোর গল্প শুনে তাদের অন্য বন্ধুরাও ভীষণ উত্সাহিত হলো। তারাও তাদের স্কুলের টিফিনের টাকাগুলো জামিয়ে রাখত। ঈদের সময় রুবি তার সব বন্ধুদের জমানো টাকা একত্রিত করে তাদের এক দরিদ্র বন্ধুকে ঈদ উপহার হিসাবে নতুন জামা কিনে দিল। নতুন জামা পেয়ে তাদের বন্ধুও ভীষণ খুশি হলো। এ বছর ঈদের দিন রুবির সব বন্ধু নতুন জামা পরল। রুবি মনে মনে তার মামাকে ধন্যবাদ জানাল। মামার থেকে সে মাটির ব্যাংকে টাকা জমানোর আইডিয়াটা পেয়েছে।
প্রথম শ্রেণি, আতাতুর্ক মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাগনভুঞা, ফেনী
অলংকরণ
সায়মা আহাদ খান
অষ্টম শ্রেণি, মনসিজ আর্ট একাডেমি