জরাজীর্ণ ভবনে চিকিত্সা সেবা বিঘ্নিত

রংপুর নগরীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নেই কোনো রোগীর চাপ। তবে এখানে আসা রোগীরা চিকিত্সাসেবা পাচ্ছেন না সঠিকভাবে।  চিকিত্সক ও নার্সসহ অন্য স্টাফরা যারা আছেন, সে সংখ্যা সেবা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে জানা গেছে। সরেজমিনে জানা গেছে, জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদটি তিন বছর ধরে শূন্য রয়েছে। আর পাঁচ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে বক্ষব্যাধি পরীক্ষার এক্সরে মেশিন। বক্ষব্যাধি হাসপাতালটির জরাজীর্ণ ভবনে ধরেছে ফাটল। সংস্কারের অভাবে স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল থেকে মাঝেমধ্যে খসে পড়ছে পলেস্তারা। রোগীদের বিছানা থেকে টয়লেট, বাথরুম সবই অপরিচ্ছন্ন। জানা যায়, ষাটের দশকে নির্মিত বক্ষব্যাধি এই  হাসপাতালটির নানা সমস্যার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন চিকিত্সকরাও। চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, নিরুপায় হয়েই এখানে চিকিত্সা নিতে আসতে হয়। তা না হলে কেউই আসত না এই ভুতুড়ে হাসপাতালে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা গেছে, সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে হাসপাতাল জুড়ে। চিকিত্সক সংকট আর দুর্বল অবকাঠামোর কারণে হাসপাতালটি যেন নিজেই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের নোংরা পরিবেশে যত্রতত্র পড়ে আছে রোগীদের বেড। শৌচাগারও ব্যবহারের অনুপযোগী। মরিচা পড়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। মাঠে থাকা টিউবওয়েলটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডসহ একটি টয়লেট ও বাথরুমের সংস্কার কাজ চলছে ঢিমেতালে।

বক্ষব্যাধি মেডিক্যাল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মেশকাতুল আবেদ  জানান, হাসপাতালের অবকাঠামো খুব দুর্বল। অনেক আগে নির্মিত ভবনটির সংস্কার হয়নি। মাস তিনেক আগে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে অফিস কক্ষ রং করা হয়েছে। রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বলেন, হাসপাতালটির সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত বছর ছাদে পানি পড়া বন্ধের কাজ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই হাসপাতাল ভবনটি অনেক পুরোনো। এ কারণে জীর্ণ হয়ে পড়েছে। পুরো ভবনটি সংস্কার করা জরুরি। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছিল। কিন্ত আজ অবধি এর নির্মাণ কাজের কোনো অগ্রগতি আসেনি। নতুন করে বক্ষব্যাধি মেডিক্যাল স্থাপনের ব্যাপারেও অনেক আগেই স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করা হয়েছিল।’