করোনায় বিপাকে তালার পানচাষিরা

করোনা ভাইরাসের কারণে পণ্য পরিবহন করতে না পারা ও ক্রেতা সমাগম কম হওয়ায় তালায় পানের দাম কমে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় পানচাষিরা। তারা বলছেন, পানের পূর্ণ উত্পাদন মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলাসহ খুলনার কয়েকটা উপজেলায় লকডাউনের কারণে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে পানের হাটবাজারগুলো। পানের ব্যাপক আমদানি হলেও নেই বিক্রি।

তালা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার ৪২৫ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ রয়েছে। তালা উপজেলায় ইসলামকাটি, খলিষখালি, জালালপুর, খেশরা, মাগুরা, খলিলনগর, কুমিরা ও তালা সদর ইউনিয়নে বেশি পানের চাষ হয়। এ অঞ্চলের বরজের পান বেশির ভাগই বিক্রি হয় তালা, পাটকেলঘাটা, কুমিরা, খলিষখালি, মাগুরা, দলুয়াসহ বিভিন্ন হাটবাজারে। এসব বাজারে পানের দাম তিন ভাগের এক ভাগ কমে গেছে। পানচাষিরা বলছেন, কিছুদিন আগে বড় পান ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও সেসব পান বর্তমানে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০ টাকার ছোট পানগুলো বাজার দর এখন ২০-২৫ টাকা।

দোহার গ্রামের পানচাষি রবিন দাশ বলেন, পান থেকেই আমার পরিবারের জীবিকা চলে। আমিসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ পান চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু লকডাউনে পানের ভালো দাম না পাওয়ায় খুব সমস্যার মধ্যে আছি। করোনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পান বাজারে আনলেও বাজারে ক্রেতা নেই। নিরুপায় হয়ে পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আরেক পানচাষি আজিজুর রহমান মালী বলেন, পানের ভালো ফলন হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতা কম। সবমিলিয়ে পানের বাজার খুবই খারাপ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, লকডাউনের কারণে পানচাষিদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে জরুরি কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তিনি বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চাষিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। রোগবালাই সম্পর্কে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিফ-উল-হাসান জানান, জরুরি কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই। এক্ষেত্রে পান চালানে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। তবে ব্যবসায়ীদের কোনো সিন্ডিকেট আছে কি না, সেটা দেখা হবে।