পরিসংখ্যানের সব বিষয়ে অভিন্ন সংজ্ঞা তৈরি করেছে বিবিএস

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিভিন্ন শুমারিতে একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা বা সংজ্ঞা ব্যবহূত হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তথ্যও ভিন্ন ভিন্ন হয়। এ সমস্যা দূর করতে সব বিষয়ে অভিন্ন সংজ্ঞা তৈরি করেছে বিবিএস। এ লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘বিবিএস গ্লোসারি (কনসেপ্টস অ্যান্ড ডেফিনেশন)’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রকাশনাটিতে কৃষি, শিল্প, পরিবেশ, ব্যবসা, উত্পাদন, সেবা, জিডিপি, মূল্য ও মজুরি, বৈদেশিক বাণিজ্যে, ব্যাংকিং, দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, শ্রমশক্তি, জেন্ডার, রেমিট্যান্স, ডেমোগ্রাফি, ফার্টিলিটি, মর্টালিটি, মাইগ্রেশনসহ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক বিষয়ে ২ হাজার ৪১টি কনসেপ্ট ও ডেফিনেশন (সংজ্ঞা) স্থান পেয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁও-এ পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনার ক্ষেত্রে মূল তথ্য আসে বিবিএস থেকে। এজন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর আরো বিশুদ্ধতা দরকার। মন্ত্রী বলেন, আগে বিবিএসের বিভিন্ন শুমারি, জরিপ ও অন্যান্য পারিসংখ্যানিক কার্যক্রমে ব্যবহূত সংজ্ঞা ও ধারণাসমূহের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হতো। জরিপে যদি ‘ভয়ংকর’ কিছু আসে তাহলে প্রয়োজন মনে করলে তাকে জানানোর পরামর্শও দেন মন্ত্রী।  তিনি বলেন, আমি প্রয়োজনে তা সরকার প্রধানকে জানাব। সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাসী জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে সরকারি তথ্য প্রকাশে কোনো সমস্যা নেই। শুধু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে ১ শতাংশ গোপনীয়তা রয়েছে। গণমাধ্যমে সেটির প্রতি অবশ্যই সম্মান দেখাবে বলে তিনি আশা করেন। মন্ত্রী আরো বলেন, আগামীতে হয়তো সেই ১ শতাংশও আর গোপন রাখার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

মন্ত্রী আমলাতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তাও ব্যাখ্যা করে বলেন, আমলাতন্ত্রের বিকল্প শূন্যতা। জীবনে শূন্যতা ভয়ঙ্কর। আমিও এক সময় আমলা ছিলাম। তবে ইউএনও, ডিসিসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উচিত স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। আমলাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে, বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দিতে হবে।