প্রস্তাবিত বাজেট পর্যটন শিল্পর জন্য বরাদ্দ খুবই যত্সামান্য। কিছুটা বাড়ালেও করোনা মোকাবিলায় যথেষ্ট নন বলে দাবি করেছে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাব জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে টোয়াবের সভাপতি মো. রাফেউজ্জামানের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় এক সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানায় টোয়াব। একই সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্যবিধি ও এসওপি মেনে খুলে দেওয়ার দাবি জানান হয়।
এতে বলা হয়, করোনা মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম পর্যটন খাত। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প। করোনা ভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের পর বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আভ্যন্তরীণ পর্যটনের মাধ্যমে কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে উঠার প্রচেষ্টায় ছিল কিন্তু করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ল। গত বছরের করোনার কারণে পর্যটনের সঙ্গে জড়িতদের সবার ক্ষতির পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুধু টোয়াব সদস্যদের ক্ষতি হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ থেকে সবকিছু স্থবির হওয়ায় পর্যটন খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়ছে। চলমান পরিস্থিতি আগামী ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত বর্ধিত হলে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে টোয়াবের সভাপতি বলেন, ট্যুর অপারেটরদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স রিনিউয়াল ফি অনেক বেশি। করোনাকালীন সময়ে প্রায় সব টোয়াব সদস্যদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এই কঠিন সময়ে উচ্চ ফি দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স রিনিউ করা অনেকের পক্ষে সম্ভবপর নয়। টোয়াব সদস্যদের জন্য পরবর্তী বছরের ট্রেড লাইসেন্স রিনিউয়াল ফি মওকুফ করার দাবি জানাচ্ছি। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের যথাযথ উন্নয়ন ও বিকাশে পর্যটনের জন্য সরকারের কাছে একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়ের টোয়াবের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানান হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন টোয়াবের পরিচালক (গণমাধ্যম ও প্রকাশনা) মোহাম্মদ সাহেদ। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরামের (এটিজেএফবি) এর সভাপতি নাদিরা কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক তানজিম আনোয়ার, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের এম রেজাউল করিম রেজা, রুমান ইমতিয়া তুষার, মইনুল ইসলাম জমাদ্দার, মনিরুজ্জামান মাসুদ ও তানভিরুল আরাফিন লিংকন প্রমুখ।