সাফের ব্যর্থ ফুটবলারদের জন্য বেতন কাঠামো

পারফরম্যান্স না করতে পারলে বাদ। খেলবেন টাকা পাবেন। খেলতে পারবেন না টাকা পাওয়া তো দূরের কথা নিচের সারিতে নামিয়ে দেওয়া হবে। টানা চারটি সাফের ব্যর্থ ফুটবলাদের জন্য বেতন কাঠামোর ঘোষণা করা হয়েছে। এসব ফুটবলারদের বেতন কাঠামো করতে যাচ্ছে যাদের বেশির ভাগ ফুটবলার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্ব হতে বিদায় নিয়েছে। ২০০৩ সালে আলফাজ, জয়, আমিনুল, আরমান, হাসান আল মামুন, পারভেজ বাবু, বিপ্লব ভট্টাচার্য, মতিউর মুন্নারা ট্রফি এনে দিয়েছিলেন। সেই ট্রফি হারিয়ে এখন দেশের ফুটবল দিশেহারা। সাফ জয়ের পর যারা ট্রফি দিতে পারেননি তাদের জন্য বেতন কাঠামো করতে যাচ্ছে বাফুফে। 

গ্রেড তৈরি করে খেলোয়াড়দের বেতন নির্ধারণ করা হবে।

গতকাল বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন জাতীয় দলের পাঁচ ফুটবলারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে ফুটবল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এই ফুটবলারদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগেই বাফুফের টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর অস্ট্রেলিয়ান পলস্মলীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বাফুফে সভাপতি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে চান। তার আগে খেলোয়াড়দের বেতন নিশ্চিত করতে চান।

বেতন কাঠামো এখনই শুরু হচ্ছে না। আরো ৯ মাস সময় নিতে চান তিনি। টেকনিক্যাল কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বেতন কাঠামো প্রয়োগ করতে চায় বাফুফে।

তিনটির গ্রেডে খেলোয়াড়দের রাখা হবে। পারফরমান্স ভালো হলে প্রথম গ্রেডে, খারাপ হলে দ্বিতীয় গ্রেডে। তৃতীয় গ্রেডও থাকবে।

কীভাবে খেলোয়াড় নির্ধারণ হবে এটা নিয়ে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন বললেন, ‘এই জুনেই প্রিমিয়ার লিগের ফিরতি পর্বের খেলা শুরু হবে। সেখানে একটা দল থাকেব যারা খেলা দেখে খেলোয়াড়দের পছন্দ করবেন। তারেদ পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে গ্রেড নির্ধারণ হবে।

সারা দুনিয়ায় জাতীয় দলের ফুটবলাররা তাদের ফুটবল সংস্থা হতে এতো বেশি পারিশ্রমিক পান না। কিন্তু বাফুফে চায় ভালো একটা স্যালারি দিতে। সালাহউদ্দিন বলছেন, ‘ইউরোপের একজন ফুটবলার যদি সপ্তাহে ১ কোটি, ২ কোটি টাকা আয় করেন আমাদের দেশের ফুটবলাররা সামান্য আয় করেন। তাদের আয় খুব একটা বেশি না ইউরোপের চেয়ে।’

আগামী ২৫ জুন প্রিমিয়ার লিগের খেলা শুরু হলে পলস্মলীসহ নির্ধারিত ব্যক্তিরা খেলা দেখে নাম লিখে নেবেন। এভাবে ৯ মাসের মধ্যে একটা তালিকা তৈরি করে বাফুফেতে জমা দেবেন যারা বেতন তালিকায় ঢুকবেন।

বাফুফের সভাপতির ডাকে গতকাল দুপুরে ফুটবল ভবনে দেখা করতে গিয়েছিলেন গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা, সাদউদ্দিন, টুটুল হোসেন বাদশা, বিশ্বনাথ ঘোষ, সুফিলরা।  গিয়েছিলেন আশঙ্কা নিয়ে। জবাবদিহিতা চাইবেন সভাপতি। কেন একের পর এক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ঢুকল আতঙ্কিত মন নিয়ে আর বেরিয়ে জানালেন সুখবর। উলটো তারা পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। রানা বললেন, ‘বেতন পেলে সেটা পারফরম্যান্স আরো বৃদ্ধি করবে। দায়িত্ব বাড়াবে।’ তাহলে কি এত দিন এই ফুটবলাদের দায়িত্ব বোধে সংকট ছিল। না কি জাতীয় দল যারা পরিচালনা করে আসছেন তাদের দায়িত্ব বোধে অভাবের কারণেই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নির্যাসটুকু আদায় করা যায়নি।