এম জি আর নাসির মজুমদার
পরিচালক, এফবিসিসিআই
বাজেট প্রণয়নে কাগজে-কলমে হিসাব গ্রহণযোগ্য হলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব হিসাব অর্জন সম্ভব হয়ে উঠে না। অতীতের ধারা তাই বলে। এবারের বাজেটে সুবিধাভোগীদের সুবিধা আরো বাড়ানো হয়েছে। তবে সুবিধাভোগীদের সুবিধা আদায়ের পথটি মসৃণ নয়, কথামালা একেবারে নিশ্চিত কথা নয়। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে আদায় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি আগের মতোই গতানুগতিক। অনিয়ম বন্ধে কার্যকর নির্দেশনা নেই। এনবিআরের এবারের লক্ষ্যমাত্রা গতবারের চেয়ে ২৯ হাজার কোটি টাকা বেশি হলেও তা কতটা আদায়যোগ্য প্রশ্ন রাখে। বাজেটের আকারের সঙ্গে মিলিয়ে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা আর কিবা হতে পারে। আবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখাও সহজ বিষয় নয়। আগামী অর্থবছরে কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ সুখকর, তবে এসব খাতে কল্যাণমুখী কার্যক্রম নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। স্বাস্থ্য খাতে যে বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হচ্ছে তার লাগাম টেনে ধরা জরুরি। বিরাজমান করোনা সংকটে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন চিকিত্সা সরঞ্জাম যেমন অক্সিজেন, হাসপাতাল, আইসিইউ সংখ্যা বাড়ানো, ভ্যাকসিন ও ক্রয় সংক্রান্ত মনিটরিং জরুরি। এসব বিষয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা উচিত ছিল।
এবারের বাজেটে বড় ব্যবসায়ী, শিল্প গোষ্ঠীকে অনেক সুবিধা দেওয়া হয়েছে অধিকতর কর্মবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে তা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অনেকটা উপেক্ষিত হয়েছেন। তবে প্রণোদনা একমাত্র ভরসা। অনেক খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও এসব সুবিধা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, স্বল্প আয়ের মানুষ নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় ও সঠিক তথ্য প্রমাণের অভাবে পরিশেষে কিছুই পায় না। সেজন্য এই বাজেটে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন ছিল। স্বল্প আয়ের মানুষদের কাছে কোনো সুবিধা পৌঁছাবার আগেই মসৃণ করতে হবে পৌঁছানোর পথ। এসব বিষয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকা উচিত ছিল।
বাজেটে নীতি, কৌশল ও বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা অনুপস্থিত। ছোট ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য পণোদনা পৌঁছানোর উদ্যোগ এবারও অস্পষ্ট। বাজেট বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের উদ্যমী হয়ে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করলে বাজেট বহুলাংশে বাস্তবায়ন সম্ভব। সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি কমাতে হবে। প্রশাসন ও বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও কর্মস্পৃহা বাড়াতে হবে। অপ্রদর্শিত অর্থ উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রদর্শনের সুযোগ দিতে হবে।