নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল
শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে চলাচলের জন্য ডুবন্ত পাকা সড়ক নির্মিত হলেও এবার নির্মাণ করা হয়েছে ডুবন্ত খাল। বর্ষাকালে এই সমস্ত খাল পানির নিচে তলিয়ে যাবে, কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে আবার পানি হাওর থেকে চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালগুলো ভেসে উঠবে, তবে খালে থাকবে পর্যাপ্ত পানি। বোরো জমিতে সেচকাজে এই পানি ব্যবহার করা হবে। সাতটি খালের মধ্যে ইতিমধ্যে পাঁচটি খালের খননকাজ শেষ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বড় হাওর উপজেলা হিসেবে পরিচিত মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরে আগামী বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ সুবিধার জন্য পানি সংরক্ষণ করতে সাতটি খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথম বারের মতো এই ধরনের খাল খনন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় লোকজন উচ্ছ্বসিত। বোরো আবাদে এটি তাদের জন্য নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে পাঁচটি খাল খননকাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বোরো আবাদে যাতে সেচ সংকট না হয় সেজন্য পানি সংরক্ষণের জন্য এই খালগুলো খনন করা হচ্ছে। যেখানে খালগুলো খনন করা হচ্ছে সে এলাকাগুলো হলো—বৈঠাখালি, ভাটাপাড়া, মল্লিকপুর, ঘোরাউত্রা, সাতমাধলই, জনটুনাই এবং ভেলাখালি। খনন শেষ করা খালগুলো হলো—মল্লিকপুর, ঘোরউত্রা, সাতমাধলই, বৈঠাখালি এবং ভাটাপাড়া। বাকি খাল দুটো আগামী শুষ্ক মৌসুমে শেষ হবে বলে জানা গেছে।
মোহনগঞ্জের ৪ নম্বর মাঘান সিয়াদার ইউনিয়নের বড়বেতাম গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম এবং মল্লিকপুর গ্রামের মুখলেছ মিয়া এবং রাজন সরকার খাল খনন নিয়ে বলেন, ‘এই খাল খননের কারণে আগামীতে তাদের বোরো আবাদে আগাম পানির জন্য কষ্ট ভোগ করতে হবে না। খালে সংরক্ষিত পানি দিয়ে বোরো জমিতে সেচ যেমন দিতে পারবে, তেমনি খরচও কম হবে।’
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, ‘২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সাতটি খাল খনন করা হচ্ছে। এই সাতটি খালের মোট দৈর্ঘ্য হচ্ছে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার।’ তিনি আরো বলেন, ‘বর্ষার সময় হাওরের এই খালগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে। কিন্তু শুকনো মৌসুমে হাওর থেকে পানি সরে গেলেও এই সব খালে পানি সংরক্ষিত থাকবে এবং বোরো জমিতে সেচ দিতে পারবে।’
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘এই খননকৃত খাল থেকে সব কৃষক যাতে সেচের পানি নিতে পারেন, সেজন্য নীতিমালা তৈরি করা হবে এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি দেখাশোনা করবে।’