সংস্কারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে ত্রিপুরা মহারাজার কাচারিবাড়ি

সাংস্কৃতিককেন্দ্র স্থ্থাপনের দাবি

অনুজকান্তি দাশ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

শ্রীমঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ত্রিপুরা মহারাজা কাচারিবাড়িটি। সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে এটি প্রায় ধ্বংসের পথে। জানা গেছে, এই কাচারিবাড়িটিকে ত্রিপুরা সাংস্কৃতিককেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য দাবি করছে বৃহত্তর সিলেট ত্রিপুরা উন্নয়ন পরিষদ। এ ব্যাপারে সম্প্রতি সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান বরাবর একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলে উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমন দেববর্মা জানান। এতে সিলেট অঞ্জলের ১৬টি ত্রিপুরা পল্লির ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন, ভূমি সমস্যা ও সমাধানসহ কাচারিবাড়ি সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আহ্বান করা হয়।

ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৮৯৮ সালে তত্কালীন ত্রিপুরা মহারাজা প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের জন্য শহরের মধ্যভাগে প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপরে চুন-সুরকি দিয়ে ঐতিহাসিক এই কাচারিবাড়িটি নির্মাণ করেন। ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য আর ২০ ফুট প্রস্থে ১২ ইঞ্চি চওড়া দেওয়াল দ্বারা নির্মিত হয় ভবনটি। অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে পর্যায়ক্রমে ত্রিপুরার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র মাণিক্য দেববর্মন বাহাদুর, এবং আধুনিক ত্রিপুরার স্থপতি মহারাজা বীর চন্দ্র মাণিক্য দেববর্মন বাহাদুর ও তার পুত্র মহারাজা রাধাকিশোর মাণিক্য দেববর্মন বাহাদুর ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই অঞ্চলে তাদের রাজত্বকালে এখান থেকেই তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে এই কাচারিবাড়িটি স্থানীয় ভূমি অফিসের সীমানার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের হবিগঞ্জ রোডস্থ ভূমি অফিস সংলগ্ন কাচারিবাড়িটি ঘুরে দেখা যায়, ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অংশ হিসেবে কালের স্বাক্ষী হয়ে দীর্ঘকাল ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে ভবনটি। তিনটি কক্ষের আটটি দরজা ও ৯টি জানালার একটিও অস্থিত্ব নেই। রং উঠে গিয়ে কালচে আকার ধারণ করা বিশাল এই ভবনের মধ্যভাগ বরাবর একটি বড় ফাঁটল দেখা দিয়েছে। কেবলমাত্র সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরাকীর্তির নিদর্শন কাচারিবাড়িটি এখন তার জৌলুস-যৌবন হারিয়ে কালেরগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

বৃহত্তর সিলেট ত্রিপুরা উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমন দেববর্মা জানান, ২০১৬ সালের জুন মাসে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নুরুল হুদা এই কাচারিবাড়িটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে ভবনটিতে নতুন করে রঙের কাজ করান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই কাজের আর কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি। তিনি আরো বলেন, ‘ভবনটির আদিরূপ অক্ষুণ্ন রেখে তা পুনসংস্কার করে এখানে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।’ শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নেছার উদ্দিন বলেন, ‘ত্রিপুরা কাচারিবাড়ি সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য সরকারের চিন্তাভাবনা থাকলেও এ ব্যাপারে এখনো কোনো পরিকল্পনা গৃহীত হয়নি।’