শরণখোলায় বিক্রি হচ্ছে না মাছ ধরার চাঁই

খালেবিলে পানির অভাব

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

শরণখোলার উত্তর কদমতলা গ্রামের চাঁই ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। মৌসুমের দুই মাস চলে গেলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় খালেবিলে পানির অভাবে মাছ ধরার চাঁই বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। তাই লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

শুক্রবার সকালে উপজেলার উত্তর কদমতলা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত চাঁইয়ের পসরা সাজিয়ে ক্ষুদ্র এই ব্যবসায়ীরা মলীন মুখে বসে আছেন। চাই বিক্রি নেই। ব্যবসায়ী দুলাল হাওলাদার বলেন, ‘প্রতি বছর বৈশাখ মাস থেকে শুরু হয়ে আষাঢ় মাস পর্যন্ত এই তিন মাস তারা চাঁই বিক্রি করে থাকেন। এ বছর বৃষ্টিপাতহীন প্রচণ্ড খরায় খালবিল, মাঠঘাট পানিশূন্য হওয়ায় তাদের তৈরী হাজার হাজার চাঁই বিক্রি হয়নি।’ উত্তর কদমতলা গ্রামে ২৫-৩০টি পরিবার চাই বিক্রি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। এখানে বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার চাঁই বিক্রি হয় অথচ মৌসুমের দুই মাসে এ পর্যন্ত সব ব্যবসায়ীর মিলে ৪-৫ লাখ টাকার চাই বিক্রি হয়েছে বলে ব্যবসায়ী দুলাল জানান। অপর ব্যবসায়ী জামাল মুন্সি বলেন, ‘তাদের তৈরী মাছ ধরার চাঁই মোরেলগঞ্জ, রামপাল, মঠবাড়ীয়া ও পাথরঘাটার জেলে ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে মাঠঘাটের পানিতে চাঁই বসিয়ে মাছ ধরে থাকেন।

পানির অভাবে এ বছর চাই বিক্রি না হওয়ায় প্রত্যেক ব্যবসায়ীর ৫০-৬০ হাজার টাকা লোকসান হবে।’ ব্যবসায়ী খোকন হাওলাদার, হারুন মুন্সি, হেলাল হাওলাদার ও রাসেল হাওলাদার পরিবেশবান্ধব মাছ ধরার চাই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে তারা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও বিনা সুদে সহজশর্তে ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।