বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কথা নয়, কাজের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন বিশ্ব নেতারা। তারা এই সময়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে উন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর সম্মেলন শুরুর আগে বিশ্ব নেতারা এই কথা বলেন। এরপর সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নারীদের প্রতি আরো সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দরিদ্র দেশের নারীদের শিক্ষায় ৪৩০ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে নেতারা দরিদ্র দেশকে ১০০ কোটি ডোজ করোনার টিকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। খবর সিএনএন, ডেইলি মেইল ও বিবিসির
কথা নয়, কাজ চাই
সম্মেলনের আগে টুইটার বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, এখন কাজ করার সময়। তিনি বলেন, এই প্রথম যুক্তরাজ্যে আমার সরকারি সফর। বাইডেন বলেন, বিশ্বে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে চাই। আসুন, এখন আমরা কাজ করি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁও এক টুইটার বার্তায় বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার জরুরি এবং এর দায়িত্ব আমাদের ওপর বর্তায়। তিনি বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।
সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি আন্তর্জাতিক বিশ্বের জন্য লজ্জার যে, দরিদ্রতম দেশগুলোর অসংখ্য মেয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। শিক্ষার মাধ্যমে এই শিশুরা শিল্প বা বৈজ্ঞানিক অগ্রগামীদের শিরোনাম হতে পারবে, যোগ করেন তিনি। এ সময় নারী শিক্ষাকে জি-৭ সম্মেলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেন বরিস জনসন। তিনি বলেন, দেশগুলোকে দারিদ্র্যতা থেকে মুক্ত করতে পারা হবে সেরা উপায়। আর বিশ্বব্যাপী তা থেকে পুনরুদ্ধারের উপায় হলো শিক্ষা এবং বিশেষত মেয়েদের শিক্ষায় বিনিয়োগ করা।
নারী শিক্ষায় গুরুত্ব বরিসের
আগামী বছরের মধ্যেই করোনা মহামারি শেষ করতে চায় জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ কোটি ডোজ করোনার টিকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে উন্নত দেশগুলোর এই সংস্থা। করোনা মহামারি, অর্থনীতি এবং জলবায়ু ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে গতকাল শুক্রবার থেকে গ্রুপের সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। তিনি দরিদ্র দেশের নারীদের শিক্ষায় ৪৩০ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
১০০ কোটি ডোজ টিকা দরিদ্র দেশগুলোর জন্য
ব্রিটিশ সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জি-৭ দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ কোটি করোনার টিকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে সম্মেলনের আগেই ব্রিটিশ সরকার বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়। জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং জাপান। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৫০ কোটি এবং ব্রিটেন ১০ কোটি টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটেন আগামী বছরের মধ্যেই এসব টিকা দেবে। আর যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি ধাপে এই টিকা দেবে দরিদ্র দেশগুলোকে। করোনা মহামারির পর টিকা আবিষ্কার হওয়ার পরেই ধনী দেশগুলো করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে তেমন কিছু করছেন না বলে সমালোচনা চলছিল। বৃহস্পতিবার ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভয় ডের লিয়েনও জানিয়েছেন, ২০২২ সালের মধ্যেই তারা করোনা মহামারি সমাপ্ত করতে টিকা সরবরাহ করবে।
এই বছরের এজেন্ডা
এবারে আলোচনার মূল বিষয় হলো কোভিড থেকে সেরে ওঠা। মূলত একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা যা সবাইকে ভবিষ্যতের মহামারি থেকে রক্ষা করতে পারবে। এজেন্ডায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাণিজ্য ইস্যুটিও আছ। ব্রিটেন-ইইউ বাণিজ্যবিরোধ কীভাবে উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবারের সফরে বরিস জনসন এবং ইইউর সঙ্গে কথা বলছেন। আজ শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিক বৈঠকগুলো শুরু হবে, ঐদিন বিকালে অতিথি দেশগুলোর নেতারা উপস্থিত হবেন। বেশির ভাগ আলোচনা বন্ধ দরজার পেছনে হবে। তবে নেতাদের ছবি তোলার সুযোগ থাকবে। শীর্ষ সম্মেলন শেষে যুক্তরাজ্য আয়োজক দেশ হিসাবে কমিউনিক নামে একটি নথি প্রকাশ করবে। সম্মেলনে নেতারা কোন কোন বিষয়ে সম্মত হয়েছেন সে সংক্রান্ত একটি রূপরেখা ঐ নথিতে থাকবে। কাল রবিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্মেলনকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং পুলিশ মোতায়েন
কোভিড বিধিনিষেধের কারণে এই বছর প্রতিবাদ এবং পুলিশিং দুটোই বেশ কঠিন হবে। শীর্ষ সম্মেলনটি উপলক্ষ্যে পুলিশের অতিরিক্ত ৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা। সেইসঙ্গে ডিভন এবং কর্নওয়াল থেকে আসা ১ হাজার ৫০০ কর্মকর্তা মোতায়েন আছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার জন্য একটি ক্রুজ শিপ ফালমাউথের কাছে নোঙর করেছে। বিক্ষোভকারীদের বলা হয়েছে যে তারা চারটি অনুমোদিত স্থানে প্রতিবাদের জন্য জড়ো হতে পারবেন, যার মধ্যে এক্সেটর একটি সম্মেলনস্থল থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে রয়েছে। পুলিশ বলেছে যে তারা প্রতিবাদ যে শুধু ঐ চারটি স্থানেই হবে, আমাদের এমনটা মনে হয় না। জলবায়ু অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ এক্সটিঙ্কশান রেবেলিওন প্লাইমাউথ থেকে কার্বিস উপসাগর পর্যন্ত পদযাত্রাসহ বেশ কয়েকটি বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল।