বিপিসির নিজস্ব ভবন নেই সদর দপ্তর চট্টগ্রামে

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সদর দপ্তর চট্টগ্রামে হওয়া সত্ত্বেও সংস্থাটির এখানে নেই কোনো নিজস্ব ভবন। গত প্রায় ৩১ বছর ধরে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের অন্যতম লাভজনক এ সংস্থার সদর দপ্তরের কাজ চলছে ভাড়া করা ভবনেই। চট্টগ্রামে এ সংস্থার সদর দপ্তর বা প্রধান কার্যালয়ের নিজস্ব ভবন নির্মাণে গত দুই দশকে অনেকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেসব উদ্যোগ বাস্তবতার মুখ দেখেনি। বিপিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মনে করেন দেশের জ্বালানি সংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিপিসির চট্টগ্রামস্থ সদর দপ্তর বা প্রধান কার্যালয়ের জন্য একটি নান্দনিক নিজস্ব ভবন প্রয়োজন।

সূত্র মতে নগরীর জামালখান সংলগ্ন জয় পাহাড়ে সংস্থাটির নিজস্ব বিপুল পরিমাণ জায়গা থাকলেও সেখানে আবাসিক এলাকা থাকায় এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়াজনিত প্রতিবন্ধকতায় বিপিসির নিজস্ব ভবন নির্মাণ সম্ভব নয়। তারা জানান, বিপিসি নিজস্ব ভবন নির্মাণে এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, তবে বাণিজ্যিক কোনো জায়গার সংস্থানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কেননা     তিনি এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও রয়েছেন।

বিপিসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, নিজস্ব ভবন নির্মাণের উদ্যোগ আগে থেকেই ছিল। তবে জায়গা নিয়ে বিষয়টি আটকে আছে। আমরা এবার বিকল্প জায়গা খোঁজার জন্য তত্পর। আশা করা যায় আগামী অর্থবছরে প্রয়োজনীয় অর্থের মাধ্যমে ভবন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, যদি প্রয়োজন হয় আমরা জায়গা কিনব। আমাদের হাতে বিকল্প যে সুবিধাগুলো রয়েছে সেগুলো কাজে লাগাব।

বিপিসি সদর দপ্তরের প্রশাসনিক শাখার এক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামে বিপিসির প্রধান কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য অনেকবার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নগরীর জয় পাহাড়ের পাশে স্থানও নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সমস্যা হলো এর পাশেই রয়েছে আবাসিক এলাকা। তার ওপর জয় পাহাড়কে বলা হয় চট্টগ্রামের ফুসফুস। সেখানে আছে গাছপালা ও নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। এই পাহাড়টির রয়েছে নিজস্ব ইকো সিস্টেম। এখানে ভবন নির্মাণের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হবে এমন পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্টের প্রশ্ন উঠায় আমাদের থেমে যেতে হয়েছে। বর্তমানে অন্যত্র জায়গা কেনার ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলছে। বিপিসির নিজস্ব টাকায় জায়গা কেনা ও ভবন নির্মাণ করা হলেও অনুমতি দেবে সরকারের অর্থ বিভাগ। বলা যায়, এ ব্যাপারে বিপিসির আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।

বিপিসির একটি সূত্র জানায়, নিজস্ব ভবন নির্মাণে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয় ৪০০ কোটি টাকা। বিপিসি প্রধান কার্যালয় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত হয় ১৯৯০ সালে। আগ্রাবাদ হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশনের ভবনে ভাড়ায় বিপিসি ২০০০ সাল পর্যন্ত অবস্থান করে। ২০০১ সালে সদর দপ্তর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) সল্টগোলা রোডস্থ ভবনে স্থনান্তরিত হয়। সেখানে প্রতি মাসে ভাড়াসহ বিপিসির এস্টাবলিসমেন্ট খরচ ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।

মহাব্যস্থাপক (অর্থ) মনিলাল দাশ বলেন, বিপিসির চট্টগ্রামস্থ প্রধান কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বর্তমানে জনবল রয়েছে সর্বমোট ১৭৭ জন। তারা মনে করেন নিজস্ব ভবন থাকলে সেখানে পর্যাপ্ত পরিসরে স্বাধীনভাবে কাজ করা যাবে।