বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহ্যের অংশ আবাহনী-মোহামেডান লড়াই। যুগ যুগ ধরে সমর্থকদের মারামারি, খেলোয়াড়-ম্যাচ অফিশিয়ালদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা—দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের দ্বৈরথের সঙ্গে পরিচিত বাংলাদেশের দর্শক। হাল আমলে যেটি প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। তবে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে দুই ক্লাবের ম্যাচে পুরোনো সেই উত্তাপ কিছুটা হলেও ফিরে আসল। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে রেগে অগ্নিশর্মা হলেন মোহামেডান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
ঘটনা ১ :মোহামেডানের দেওয়া ১৪৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করছিল আবাহনী। ইনিংসের পঞ্চম ও সাকিবের প্রথম ওভার। আবাহনীর অধিনায়ক মুশফিকের প্যাডে লাগে ওভারের শেষ বলটি। বোলার সাকিবের আউটের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার ইমরান পারভেজ। সঙ্গে সঙ্গে বাঁ পায়ে তীব্র গতিতে লাথি দিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে ফেলেন এ বাঁহাতি অলরাউন্ডার। পরে আম্পায়ারের সঙ্গেও বাহাসে জড়ান তিনি। ঘটনা ২ :ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলের পর বৃষ্টি নামতে শুরু করে। কাভার নিয়ে প্রস্তুত থাকা মাঠকর্মীদের আসার ইঙ্গিত দেন আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান। ফিল্ডিং পজিশন থেকে আম্পায়ারকে কিছু বলতে বলতে এগিয়ে আসেন সাকিব। এরপর হুট করেই তিন স্ট্যাম্প তুলে আছড়ে ফেলেন মাটিতে। আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক করতে করতে একটি স্ট্যাম্প আবার মাটিতে পুঁতে দেন। মাঠ ছাড়তে ছাড়তে আবাহনীর কোচ ও বিসিবির পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গেও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় সাকিবের।
ক্ষমা চাইলেন সাকিব
বৃষ্টির পর আবাহনীর ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেছেন সাকিব। ম্যাচটা যদিও ডিএল মেথডে মোহামেডান জিতেছে ৩১ রানে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে ম্যাচের পর ক্ষমা চেয়েছেন সাকিব। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার লিখেছেন, ‘প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা, আমি অত্যন্ত দুঃখিত মেজাজ হারানোর জন্য ও সবার ম্যাচ নষ্ট করার জন্য। বিশেষ করে, যারা ঘরে বসে দেখছেন। আমার মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত হয়নি, কিন্তু কখনো কখনো সবকিছুর বিরুদ্ধে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এরকম হয়ে যায়।’
তিনি আরো লিখেছেন, ‘আমি দলগুলোর কাছে, ম্যানেজমেন্ট, টুর্নামেন্ট অফিশিয়ালস ও আয়োজক কমিটির কাছে মানবিক এই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইছি। আশা করি, ভবিষ্যতে আমি আর এর পুনরাবৃত্তি করব না। ধন্যবাদ ও ভালোবাসা সবার জন্য।’
ম্যাচ রেফারির রিপোর্টের অপেক্ষায় বিসিবি
গতকাল ঘটনাবহুল ম্যাচের পর লিগের আয়োজক ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান কাজী ইনাম বলেছেন, ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খেলোয়াড়দের আবেগ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, ‘এখানে ম্যানেজমেন্ট যারা আমাদের দেখে, বিশেষ ম্যাচ রেফারি যারা দেখে ম্যাচ আম্পায়ার্স, তারা একটা রিপোর্ট দেবে, আমরা আশা করছি আজ (গতকাল) তাদের রিপোর্ট আসবে। আপনি কোনো নিয়ম ভাঙলে কি ধরনের শাস্তি হবে তা আইন অনুযায়ী আসবে।’