ভারত থেকে আবার পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। গত একদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজে পাঁচ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে দর নির্ধারণের পর গত প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্ধারিত দরে সয়াবিন, পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছেন না। এছাড়া দাম বেড়েছে, এমন পণ্যের তালিকায় আরো রয়েছে ডিম ও ব্রয়লার মুরগি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর ও কাওরানবাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) গতকাল তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, উত্পাদন সংকট দেখিয়ে গত ৩০ এপ্রিল থেকে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। কোটি কোটি টাকার এলসি খোলা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে গত ৪০ দিনে কোনো পেঁয়াজ আসেনি। পরে গত বুধবার রাত থেকে আবার পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। প্রতি কেজি পেঁয়াজে পাঁচ টাকা কমে গতকাল রাজধানীর বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাওরানবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে যে দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তা বেশি। তবে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু হওয়ায় ও বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো থাকায় দাম আরো কমবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, এক মাস আগেও মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩২ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। এদিকে গত ২৭ মে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোজ্য তেলের নতুন দর নির্ধারণ করা হলেও এখনো খুচরা বাজারে তা কার্যকর হয়নি। নির্ধারিত দরে রাজধানীর বাজারে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ও পাম সুপার বিক্রি হচ্ছে না। গতকাল বাজারে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন কোম্পানিভেদে ১৪৫ থেকে ১৬০ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৬৬০ থেকে ৭২০ টাকা, খোলা সয়াবিনের লিটার ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ও পাম সুপার ১১৪ থেকে ১১৮ টাকা বিক্রি হয়। কিন্তু এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন সর্বোচ্চ ১৫৩ টাকা ও পাম সুপার ১১২ টাকা লিটার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শুধু পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের বেঁধে দেওয়া দর ৭২৮ টাকার কমে বাজারে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বেড়েছে ডিম, ব্রয়লার মুরগির দাম
রাজধানীর খুচরা বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও আদার দাম বেড়েছে। প্রতি হালি ফার্মের ডিমে ৩ টাকা বেড়ে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। যা গত সপ্তাহে ছিল ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকা।
চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে
বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়লেও ভোক্তাদের জন্য সুখবর নতুন করে আর চালের দাম বাড়েনি। গত এক সপ্তাহে চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল বাজারে সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা, মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা ৫০ থেকে ৫৬ টাকা ও মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা ৪৫ থেকে ৪৮ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।