ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র রিফাত মিয়া (৯) কে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে নির্যাতন করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় নির্যাতনে অভিযুক্ত মা ও ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দুই জনকে আটক করা হয়েছে। রিফাত রামগোপালপুর ইউনিয়নের মধুবন আদর্শ গ্রামের (গুচ্ছগ্রাম) মো. সুরুজ মিয়ার পুত্র। মো. সুরুজ মিয়া বলেন, ৪ জুন আমার ছেলেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. দুলাল মিয়ার স্ত্রী মো. ফাতেমা আক্তার (৫০) ও মৃত আব্দুল বারেকের পুত্র মো. হিমেল মিয়া (২৫) ধরে নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে। মৃত আব্দুল বারেক ছিলেন ফাতেমা আক্তারের প্রথম স্বামী। ফাতেমা আক্তারের ভাতিজা আজিজুল হক আমার ছেলেকে আম পাড়ার জন্য নিয়ে যায়। আমার ছেলে গাছে ওঠার পর মা-ছেলে দুই জন মিলে গাছের ওপরে রেখেই পিটায়। নির্যাতনের ঘটনায় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
নির্যাতনের শিকার মো. রিফাত মিয়া জানায়, ৮-৯ দিন পূর্বে ফাতেমা আক্তারের ভাতিজা আজিজুল হক তার আমগাছে আম পাড়ার জন্য নিয়ে যায়। ‘আমি আম পাড়ার জন্য গাছে উঠতেই গাছের মধ্যেই আমাকে মারপিট শুরু করে। আমাকে ধরে নিয়ে প্রথমে হাত-পা বেঁধে এরপর গাছের সঙ্গে বেঁধে মারপিট করে। আমি ওদের হাতে-পায়ে ধরেছি এরপরও মারপিট বন্ধ করে নাই। আমাকে পিটানোর সময় ওরা বারবার বলেছে, আমি মোবাইল ফোন চুরি করেছি। আল্লাহর কসম খেয়ে বলেছি, আমি চুরি করি নাই, তারপরও ওরা আমাকে গাছে বেঁধে মারধর করেছে।’ ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় ভিডিওতে দেখা যায়, ঐ নারী নিজেই ভিডিওকারীকে বলছেন ‘ভিডিও কর ভিডিও কর, খোকন এটা ফেসবুকে দে, চেয়ারম্যান দেখুক, চোর ধরছি।’ এ সময় শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। এক পর্যায়ে ঘর থেকে গরুর দড়ি এনে ছেলেটাকে আরো মজবুত করে বাঁধে তারা। ঐ নারী কখনো কখনো তার ছাগল চুরির কথাও বলেছেন। মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় শিশুটিকে ধরে এনে সামান্য মারধর করা হয়েছে দাবি করে নির্যাতনকারী মো. হিমেল মিয়া।