‘মানুষ নিজেদের গল্পই দেখতে চায়’

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নাটক-চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দারুণ সফলতার পরিচয় দিয়েছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নাম লেখালেন প্রযোজকের খাতায়। নিজের প্রযোজনা সংস্থা’সহ ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

 

বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাই—

এখন তো অভিনয় সেভাবে করছি না। তবে করোনাকলীন দুটি কাজ সফলতার সঙ্গে শুরু করলাম। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠার ‘খনা অর্গানিক’ এবং প্রযোজনা সংস্থা ‘রে’-এর কার্যক্রম এরইমধ্যে শুরু করেছি। আপাতত এই কাজগুলো নিয়েই ব্যস্ততা চলছে।

আপনার প্রযোজনা সংস্থা যাত্রা শুরু করলো। সংস্থাটির কার্যক্রম ও পরিকল্পনা নিয়ে কী বলবেন?

পরিকল্পনা বলতে আমরা এই সংস্থা থেকে সিনেমার পাশাপাশি ডকুমেন্টারি নির্মাণ করবো। এরইমধ্যে কিছু ছবির স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছি এবং একটি ছবির অনুদানের জন্য জমা দিয়েছি। আমরা আন্তর্জাতিকমান ঠিক রেখে সুন্দর ছবি উপহার দিতে চাই। এছাড়া ‘স্টার’ নামক যে সিন্ডিকেট তৈরি করে রাখা হয়েছে, সেই ধারা আমার প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে ভাঙতে চাই।

প্রযোজনা সংস্থাটি থেকে নতুন একটি ছবির কাজ করছেন। এ সম্পর্কে জানতে চাই—

আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে এই ছবিটির পরিবেশনার দায়িত্ব পালন করছে। এরইমধ্যে ‘সাইকেল বালক’ শিরোনামের এই ছবিটি ওটিটি প্লাটফর্ম হইচইয়ের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এটাই আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রথম কাজ। আর ছবিটি সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত বলতে চাচ্ছি না। শুধু এটুকই বলবো, এটি কিশোর গল্পে নির্মিত একটি ছবি।

এই ছবিটি তথাকথিত তারকা নির্ভর নয়। এর কারণ কী?

এই ছবিটির গল্পের জন্য স্টারশিপ প্রয়োজন পড়েনি। আমি ছবিটি দেখার পর যেমন চিন্তা না করেই দায়িত্ব নিয়েছিলাম তেমনি হইচই কর্তৃপক্ষও কিন্তু দেখেই পছন্দ করেছে। এখানে নির্মাণ ও গল্প মুখ্য ছিল, কারা অভিনয় করেছে সেটা নয়।

চলচ্চিত্রের এই সংকটের সময় প্রযোজনায় নাম লেখানো কতটা ইতিবাচক বলে মনে করছেন?

এই সংকট তৈরি হয়েছে বলেই প্রযোজনায় নাম লেখালাম। কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে। যখন দেখলাম আমি একজন অভিনেত্রী হয়েও মনের মতো অভিনয় করতে পারছি না, তখন তো আমি হতাশ! সেই জায়গা থেকেই প্রযোজনার কথা চিন্তা করা। তবে হল বন্ধ থাকলেও এক সময় তো খুলবে। পাশাপাশি এখন কিন্তু ছবি মুক্তির বিকল্প অনেক মাধ্যমও চলে এসেছে। সময়ের প্রয়োজনে যখন যা করা উচিত বলে মনে হবে, সেটাই করতে চাই।

অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশের ওটিটি প্লাটফর্মগুলো অবস্থান তৈরি করতে না পারার কারণ হিসেবে কী বলবেন?

আমাদের তো নিজেস্ব কোনো চিন্তাধারা নেই। আমরা অন্যকে কপি করে চলার চেষ্টা করছি। কিন্তু ভুলে যাচ্ছি যে, বাইরের কাজের কোয়ালিটি আছে, ওরা ওদের গল্প বলে। ফলো করা ভালো, কিন্তু তাদের দেখে শিক্ষা নিয়ে আমাদের নিজের মতো করে নির্মাণ করতে হবে। কারণ আমাদের দেশের মানুষ নিজেদের গল্পই দেখতে চায়। কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। যে কারণে হয়তো আমাদের প্লাটফর্মগুলো সেই জায়গা তৈরি করতে পারছে না।

ওটিটি মাধ্যমটি শুরু থেকেই নেতিবাচক আলোচনায় রয়েছে। কেউ বলছেন এটা আশীর্বাদ হয়েছে এসেছে, কেউ বলছেন আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংস করে দিচ্ছে। আপনি মাধ্যমটিকে কীভাবে দেখছেন?

আসলে নিজেস্ব সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে কিছু নির্মাণ করা বোকামি। আমাদের দেশের গল্পের ছবি কিন্তু মানুষ দেখেন। এটার প্রামাণ কিন্তু আমাদের রয়েছে। আমাদের নিজেদের গল্পের অনেক ছবিই কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অনেক নির্মাতা মনে করেন ‘অশ্লীলতা’ থাকলেই ছবি চলবে। তবে তাদের  এই ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। তাছাড়া একটি দৃশ্য উপস্থাপন করার মতো মাঝেও অনেক কিছু নির্ভর করে। আমাদের আসলে সঠিক শিক্ষার অভাব রয়েছে।