বিমানবন্দরে এক রেস্টুরেন্টে শতাধিক মরা মুরগি জব্দ

রাজধানীর রেস্টুরেন্টগুলোতে ‘মরা মুরগি’ রান্না করার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। ঢাকার বাইরে থেকে মুরগি পরিবহন করার সময় অনেক মুরগি মারা যায়। এসব মুরগি একটি চক্র সংগ্রহ করে তা কম দামে রেস্টুরেন্টে সরবরাহ করে। গুলিস্তানের কাপ্তানবাজার, যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও কাওরানবাজারে এই মরা মুরগির চক্র সক্রিয়। এসব এলাকা থেকে এই চক্রটি মরা মুরগি সংগ্রহ করে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে সরবরাহ করে। শনিবার খোদ শাহজালাল বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউস এলাকার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে শতাধিক মরা মুরগি জব্দ করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন।

গতকাল দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত সাদা পোশাকে এপিবিএনের সদস্যরা এয়ারপোর্টের কাস্টমস হাউস এলাকার ‘এয়ারপোর্ট রেস্তোরাঁ’ নামে ঐ রেস্টুরেন্ট থেকে এসব মরা মুরগি জব্দ করে। এ সময় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারসহ সাত জনকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, ঐ রেস্টুরেন্টে মরা মুরগিগুলো নিয়ে আসা হতো, যা রান্না করে সাধারণ মানুষদের খাওয়ানো হতো। দুপুর আড়াইটার দিকের এয়ারপোর্ট রেস্তোরাঁর সামনে বিপুল পরিমাণ মরা মুরগি বহন করা একটি পিকআপ ভ্যান আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের একটি টিম সাদা   পোশাকে ঐ পিকআপ ভ্যানে অভিযান চালিয়ে ১১৯টি মরা মুরগি উদ্ধার করে। এ সময় মরা মুরগির মাংস পরিবেশন করার অভিযোগে এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার রবিউল ইসলামসহ সাত জনকে আটক করা হয়।

আটক সাত জনকে বিমানবন্দরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী আফরোজের আদালতে হাজির করা হয়। আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, মরা ও পচা মুরগি দিয়ে চিকেন ফ্রাই, চিকেন বিরিয়ানি, চিকেন রোস্টসহ বিভিন্ন আইটেম রান্না করে ভোক্তাদের পরিবেশন করে আসছিল তারা। যেটা আইনের চোখে নিষিদ্ধ এবং চরম অপরাধ। আদালত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটককৃতদের ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে।

বিমানবন্দর ও ঢাকা কাস্টম হাউজের সামনে এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট যেখানে শত শত ক্ষুধার্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার খেয়ে থাকেন। সেখানেই প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হয়ে আসছিলেন সাধারণ ভোক্তারা। ঐ রেস্টুরেন্টের পাশের এক চা দোকানি জানান, রেস্টুরেন্টটি চালু হওয়ার পর থেকে কোনো দিন জীবিত মুরগির ঝুড়ি রেস্টুরেন্টে ঢুকতে দেখিনি। অথচ প্রতিদিন দেখি, মুরগির বিভিন্ন আইটেম রান্না করা হচ্ছে। আর কাস্টমাররা খাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে দৈনিক ইত্তেফাকে ‘আমরা কি খাচ্ছি’ শিরোনামে ভেজাল খাদ্য নিয়ে সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ঐ সময় ম্যাজিস্ট্রেট রোকন-উদ-দ্দৌলার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীর অনেক রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে মরা মুরগির মাংস ও ভেজাল খাদ্য জব্দ করে।