চীনকে টেক্কা দিতে মাঠে নামছে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন গ্রুপ অব সেভেন বা জি-৭। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) এর পালটা প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে ধনী দেশগুলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পশ্চিমা দেশগুলোকে চীনের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে করোনার মতো মহামারি রুখতে একটি পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হবে এই সম্মেলনে। খবর রয়টার্স ও বিবিসির
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবারই চীনের বিরুদ্ধে নতুন অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা ঘোষণা করার কথা। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে কারবিস বে তে জি-৭ সম্মেলন চলছে। এই সম্মেলনে চীনের অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকা ক্ষমতা অর্জনকে ঠেকাতে একজোট হচ্ছে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর এই সংস্থা। গত ৪০ বছর ধরে চীন অর্থনৈতিকভাবে দারুণ উন্নতি করেছে যা অন্যান্য দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং জি-৭ এর অন্যান্য নেতারা আশা করছেন, নতুন পরিকল্পনা ‘বিল্ড ব্যাক বেটার ওয়ার্ল্ড’ (বি৩ডব্লিউ) ২০৩৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে। সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা বলছেন, এটা চীনের পক্ষে-বিপক্ষের বিষয় নয়। আমরা একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাই। আমাদের মূল্যবোধ ঠিক রাখতে চাই। জি-৭ ভুক্ত দেশ জলবায়ু, স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং লিঙ্গ বৈষম্য ও সাম্যের প্রতি গুরুত্ব দেবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কী পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে তা জানা যায়নি।
২০১৩ সালে চীন এই বিআরআই প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ১০০টির বেশি দেশ যুক্ত হয়েছে। এই বিআরআই প্রকল্পের মধ্যে রেলওয়ে, সড়ক, বন্দর, মহাসড়ক ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো রয়েছে। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জি-৭ সম্মেলন শুরু হয়। এর উদ্বোধন করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। শনিবার একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই অধিবেশনের পর ‘কারবিস বে ডিক্লারেশন’ উত্থাপন করবেন জি-৭-এর নেতারা। সেখানে করোনা-পরবর্তী যে কোনো মহামারি মোকাবিলায় কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার কথা রয়েছে তাদের। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ছাড়াও এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেল ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দুই নেতাও এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এই সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দিচ্ছে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নেতারা।