রায়হান আহমেদ
স্নাতকোত্তর শেষে যখন চাকরির আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিলেন, ঠিক তখনই নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আড়ঙ্গ ফেসবুক পেজ নতুন উদ্যমে জেগে ওঠার এক বিন্দু আলো জ্বেলে দেয়। ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে ৫ লাখ টাকার পুঁজি করেছেন। প্রতি মাসে আয় করছেন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এমনটাই জানান নবীন উদ্যোক্তা তামান্না আক্তার চাঁদনী।
নবম শ্রেণিতে থাকতেই বিয়ের পিড়িতে বসেন তিনি। কিন্তু বাদ দেননি পড়াশোনা। এসএসসি পরীক্ষার পর প্রথম সন্তান হয়। ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেই হন দ্বিতীয় সন্তারের অধিকারী। সংসার ও সন্তান লালনপালনের পাশাপাশি সফলতার সঙ্গে চালিয়ে যান পড়াশোনা। সামাজিক বাধা, ভীতি কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তাকে। কবি নজরুল সরকারি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে শেষ করেছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। আড়ঙ্গ নামে ফেসবুক পেজ খুলে বিভিন্ন গহনা, জামদানি শাড়ি, কসমেটিকস আপলোড দিতে থাকেন। ধীরে ধীরে অর্ডার আসতে থাকে, সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদাও বাড়তে থাকে ফলে জনপ্রিয় হয়ে উঠে আড়ঙ্গ পেজ। এছাড়া চাঁদনী তার হাতের সুনিপুণ নৈপুণ্যে লকেট পুঁতি, সাইট পিস, ব্রোঞ্জ পিস তৈরি করে বেশ সাড়া পেয়েছিলেন। বর্তমানে ব্যস্ততার কারণে তিনি দেশি জুয়েলারি, ঢাকাইয়া জামদানি, বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে দেশি মসলিন শাড়ি বিক্রি করছেন। সংসার পড়াশোনা সবকিছুর ভারসাম্য ঠিক রেখেই এই নবীন উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন স্বনির্ভর। এগিয়ে চলার জন্য পরিবার থেকে পেয়েছিলেন পর্যাপ্ত আশ্বাস। সংগ্রাম আর অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে ছুটে চলেছেন সফলতার টানে।
২০১৬ গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরির জন্য অনেক ছোটাছুটি করেও মানসন্মত চাকরি পাচ্ছিলাম না। তখন চারদিকের অনলাইন বিজনেস দেখে ব্যবসা করার প্ল্যান মাথায় আসে। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে হঠাত্ করেই আমি নিজের জন্য কেনা গহনাগুলো আড়ঙ্গ পেজে খুলে সেখানে আপলোড করি। আড়ঙ্গ পেজের নাম দিয়েছি মূলত যেখানে নারীদের সাজসজ্জার সরঞ্জাম যেখানে সজ্জিত থাকে। তো রাতে আপলোড করি সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি অর্ডার আসে। মূলত সেখান থেকেই ধীরে ধীরে আমার যাত্রা শুরু।
সব প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অনুকূলে আনা আমার একা সম্ভব ছিল না। সঙ্গে আমার মা, বাবা, আমার স্বামী, সহপাঠীদের সহযোগিতায় আমার এ পথ চলা। আমি সফল কি না জানি না। এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পৌঁছাতে পারিনি হয়তো, তবে এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি। আল্লাহ চাইলে ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে। গ্রুপ পেজ সবটাই এখন আমার পরিবারের মতো। নতুন নতুন ডিজাইনের পণ্য নিয়ে কাজ করাটা আসলেই আনন্দের। দেশীয় মসলিন, জামদানি শাড়ির জন্যই আমার পেজটা বেশ পরিচিত।
বর্তমানে নতুন অনেকেই আবেগের বশে ব্যবসায় আসছেন কিন্তু ভালো সাড়া না মেলায় অনেকেই ঝরে যায়। তাই লেগে থাকার মনমানসিকতা থাকতে হবে। আর সবার আগে চাই ধৈর্য্য এবং সবকিছু মেনে নেওয়ার ক্ষমতা।