আমাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টায় জড়িত ‘নাসির উদ্দিন’:পরীমণি

আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি নিজেই। গতকাল রবিবার এই অভিনেত্রী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এই অভিযোগের কথা জানান। প্রতিকার চেয়ে তিনি থানায় গিয়ে সাড়া পাননি দাবি করে ফেসবুক পোস্টে বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য কামনা করেন।

এদিকে গতকাল রবিবার রাতে নিজের বনানীর বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে পরীমণি তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টাকারী ব্যক্তির নাম জানিয়েছেন। তিনি জানান, চার দিন আগে উত্তরা বোট ক্লাবে নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করেন। তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলেও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান পরীমণি।

তিনি বলেন, চার দিন আগে উত্তরা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করেন নাসির উদ্দিন নামে ঐ ব্যক্তি। তিনি নিজেকে উত্তরা বোট ক্লাবের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। পরীমণি জানান, সেদিন রাতে ঐ ক্লাবে ঐ ব্যক্তি তার গায়ে হাত তোলেন। অশালীন আচরণ করা হয় ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি সেখানে অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর রাত ২টা থেকে আড়াইটার দিকে তিনি সুস্থ হয়ে বনানী থানায় যান। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন। থানা অভিযোগ নিলেও তাকে অভিযোগের কপি দেওয়া হয়নি।

নায়িকা পরীমণি আরো জানান, একটি দাওয়াতের অনুষ্ঠানে তার পূর্বপরিচিত আলোকচিত্রী অমির সঙ্গে সেদিন উত্তরা বোট ক্লাবে যান। সেখানে তাকে পানীয় গ্রহণ করতে বলা হয়। এরপর তার সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করেন নাসির উদ্দিন। একপর্যায়ে শুরু হয় মারধর।

বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা

পরীমণি এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়েছেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

বরাবর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি পরীমণি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা। যাদেরকে পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনা বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়! আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ। আমি চুপ করে থাকতে পারি না। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কি বলবে এই গিলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মত (যাদের অনেক নাম এক্ষুনি মনে পড়ে গেল) তাদের মত আমিও কেবল তাদের দল ভারী করতে চলেছি হয়তো। আফসোস ছাড়া কারোর কি করবার থাকবে তখন! আমি তাদের মত চুপ কি করে থাকতে পারি মা? আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোন অন্যায় মেনে নিতে! আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। এতদিনে কখনো আমার এক মুহূর্ত মাকে খুব দরকার এখন, মনে হয়নি এটা। আজ মনে হচ্ছে, ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার, একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্যে দরকার। আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্যে আপনাকে দরকার মা। মা আমি বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা।