আজ ১৪ জুন পূর্ণ হচ্ছে মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের ২৪ বছর। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন গ্যাসকূপে মার্কিন অক্সিডেন্টাল কোম্পানির ড্রিলিং চলাকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বন, পরিবেশ, রেল ও সড়কপথ, পানজুম, বিদ্যুত্লাইন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বন ও পরিবেশের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করলেও বন বিভাগ দাবিকৃত ক্ষতিপূরণ পায়নি।
বন বিভাগের হিসাব মতে, বিস্ফোরণে প্রত্যক্ষ ক্ষতি ৩২ কোটি ৫৩ লাখ এবং অন্যান্য ক্ষতি মিলিয়ে মোট ১৭৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এই সময়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয় পুরো হিসাব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬০৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করে অক্সিডেন্টালের কাছে দাবি জানায়। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসে অক্সিডেন্টাল মাগুরছড়া গ্যাসকূপসহ তাদের ব্যবসা ইউনিকলের কাছে হস্তান্তর করে। ইউনিকল দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্ষতিপূরণ বিষয়ে টালবাহানা শুরু করে। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজারস্থ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন ও পরিবেশের এই ক্ষতিপূরণ আদায় হওয়া আমাদেরও দাবি।
জানা যায়, লাউয়াছড়া ফরেস্ট বিটের অভ্যন্তরে মাগুরছড়া এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অক্সিডেন্টাল কোম্পানি দায়িত্ব গ্রহণের পর তারা গ্যাস ফিল্ড ড্রিলিং কাজের জন্য সাবলিজ প্রদান করে ডিউটেক জার্মান কোম্পানিকে। ১৪ নম্বর ব্লকের মাগুরছড়া মৌলভীবাজার-১ গ্যাসকূপ খননকালে বিস্ফোরণে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬৯৫ হেক্টর বনাঞ্চল। ক্ষতি হয় রেল ও সড়ক পথ, ফুলবাড়ী চা-বাগান, খাসিয়া পুঞ্জির বাড়িঘর, পান জুম ও পিডিবির ৩৩ হাজার বিদ্যুত্লাইনের। পরোক্ষভাবে ২৮টি চা-বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া ২০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে নষ্ট হয়। দুই বছরের মধ্যে ফুলবাড়ী চা-বাগানের ক্ষতিগ্রস্ত টি প্ল্যান্টেশন এলাকার ক্ষতিপূরণ, খাসিয়া পুঞ্জির ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ২ কোটি ৫ লাখ টাকা দাবির মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ও বাস মালিক সমিতিকে ২৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের ফলে লতা, গুল্ম, বহু উদ্ভিদ এবং বিভিন্ন কীটপতঙ্গ ও ছোট প্রাণী হারিয়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত বড় বড় প্রাণীগুলোকে খাবার সংকটে ভুগতে হচ্ছে।