স্ত্রী-ছেলেসহ তিন জনকে গুলি করে হত্যা, এএসআই আটক

কুষ্টিয়ায় দিন-দুপুরে স্ত্রী, সত্-ছেলে ও স্ত্রীর প্রেমিককে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশের এক এএসআই। ঐ পুলিশ সদস্যের নাম সৌমেন রায়, তিনি খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ সৌমেনকে অস্ত্রসহ আটক করেছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টম মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সৌমেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতরা হলেন—আসমা বেগম (২৫), শিশুপুত্র রবিন (৬) ও শাকিল খান (২৮)। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পুলিশ জানিয়েছে, স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ার কারণে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।    কলহ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিত্সক আসমাকে মৃত বলে জানিয়ে দেন। আর রবিন ও শাকিল অস্ত্রোপচারের সময় মারা যায়। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কাস্টম মোড় এলাকায় তিনতলা একটি বাড়ির সামনে গৃহবধূ আসমা বেগম ছেলে রবিনকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় শাকিলও সেখানে ছিলেন। তাদের একসঙ্গে দেখে প্রথমে ঐ গৃহবধূর মাথায় গুলি চালান সৌমেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আসমা। এরপর শাকিলের মাথায় গুলি চালান। শাকিল ঐ এলাকার একটি বিকাশের ডিস্টিবিউটর হিসেবে কর্মরত। আসমা ও শাকিলকে গুলি করার পর আতঙ্কিত রবিন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সৌমেন রবিনের মাথায়ও গুলি করে। গুলিবিদ্ধ রবিন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। উপর্যুপরি গুলির শব্দে এলাকার লোকজন ছুটে এলে সৌমেন তিনতলা বাড়ির মধ্যে ঢুকে লুকানোর চেষ্টা করে। এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ঐ সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সৌমেন খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত।

সূত্র জানিয়েছে, আসমা ও শাকিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাঁওতা গ্রামের বাসিন্দা। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তাদের দুই জনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে। শাকিলের সঙ্গে আসমার সম্পর্ক নিয়েই সৌমেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলেও ধারণা করছে পুলিশসহ স্থানীয়রা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত অস্ত্রটি সরকারি রিভলবার বলে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পুলিশ ঐ রিভলবারটি জব্দ করেছে।

জানা গেছে, আসমা কুমারখালী থানার বাগুলাট ইউনিয়নের নাতুরিয়া গ্রামের আমীর আলীর মেয়ে। কাস্টম মোড়ের একটি বাড়িতে রবিনকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। আসমা সৌমেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। বছর দেড়েক আগে তাদের বিয়ে হয়। এর আগে এএসআই সৌমেন কুষ্টিয়ায় চাকরিরত ছিলেন। সে সময় একটি মামলার বিষয় নিয়ে আসমার সঙ্গে সৌমেনের পরিচয়। সেখান থেকেই তারা বিয়ে করেন।

দিন-দুপুরে শহরের জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ত্রিপল মার্ডার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও জনমনে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তাকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তদন্তের জন্য পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রেখেছে।

কুষ্টিয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত অস্ত্রটি সরকারি অস্ত্র বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

কুষ্টিয়ার এসপি খাইরুল আলম জানান, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে চিহ্নিত করে আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে।

ছুটি ছাড়াই কুষ্টিয়া গিয়েছিলেন সৌমেন

খুলনা অফিস

খুলনার ফুলতলা থানা থেকে ছুটি না নিয়ে পালিয়ে কুষ্টিয়া গিয়েছিলেন এএসআই সৌমেন রায়। গতকাল রবিবার সকালে ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) জানান, কাউকে কিছু না বলে নিজের রিভলবার নিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে যান সৌমেন। এএসআই সৌমেন রায় মাগুরা সদর উপজেলার আসবা গ্রামের মৃত সুনীল রায়ের ছেলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফুলতলা থানার একজন কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সৌমেন রায় খুলনার ফুলতলা থানায় এএসআই পদে যোগদান করেন। এরপর থেকেই সে মাঝেমধ্যে থানায় অনুপস্থিত থাকতেন। রবিবার সকালে সে কাউকে কিছু না বলে থানা থেকে বেরিয়ে যায়। দুপুরে আমরা খবর পাই, সে কুষ্টিয়ায় গিয়ে নারী-শিশুসহ সে তিন জনকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাহবুব হাসান জানান, ইতিমধ্যে তাকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।