দেশের রিজার্ভের অর্থে প্রথম প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি সই হয়েছে। পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বেলজিয়াম ভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি জেন ডি নুল (জেডিএন)-এর সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহম্মদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জ্বল হোসেন ভুঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেজবা উদ্দিন চৌধুরী। আরো বক্তব্য রাখেন পায়রা বন্দরের চেয়্যারম্যান কমোডোর হুমায়ুন কল্লোল।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় পায়রা বন্দর দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বন্দরটিতে জাহাজ চলাচল উদ্বোধন করেন। এখন পর্যন্ত ১৩৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করেছে যা থেকে সরকারের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। বন্দরটি আন্দারমানিক নদীর তীরে রাবনাবাদ চ্যানেলে অবস্থিত। নিরবচ্ছিন্নভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য বর্তমানে চ্যানেলে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং চালু রয়েছে, যার ফলে চ্যানেলের গভীরতা ৬ দশমিক ৩ মিটার বজায় রাখা হচ্ছে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বন্দরে অধিকতর বড় জাহাজ ভিড়ানোর জন্য এর আগে বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি জেডিএন-এর সঙ্গে একটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে রাবনাবাদ চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলের গভীরতা ১০ দশমিক ৫ মিটারে উন্নীত করে বন্দরে ৪০ হাজার টন কার্গোবাহী এবং ৩ হাজার টিইইউ বিশিষ্ট জাহাজ বন্দরে সরাসরি ভিড়তে সক্ষম হবে।
দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে দেশের উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড তৈরি করেছেন। এই তহবিলের প্রথম গ্রাহক হিসেবে তিনি পায়রা বন্দরকে বেছে নিয়েছেন এবং ড্রেজিং এই তহবিল হতে অর্থায়নের অনুমোদন করেছেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে ড্রেজিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রায় ৫৩ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। দেশের প্রচলিত সব বিধিবিধান প্রতিপালন করে ড্রেজিং করার জন্য বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানির সঙ্গে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমাদের সম্পদের কোনো অভাব নেই। যেটার অভাব মাঝে মাঝে হয় সেটি হচ্ছে সততা, দায়বদ্ধতা ও জাতির প্রতি দায়িত্বশীলতার অভাব। আমাদের মাটির দিকে তাকাতে হবে। নিজেদের নদী-নালা, খালবিল, পাহাড় সবই নিজেদের আয়ত্তে আনতে হবে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রিজার্ভের অর্থে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রথম প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এই বন্দরটি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
ড. আহমেদ কায়কাউস বলেন, দেশের সম্পদ কীভাবে কাজে লাগাতে হয় সেটি দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।