চলছে করোনা মহামারির দীর্ঘ ছুটি। ভ্যাকসিন ছাড়া খুলবে না বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। অন্যদিকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ভয়াবহ সেশনজটের কবলে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় পরীক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয় শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে যাওয়ারও হুমকি দেয়। সবকিছু বিবেচনায় এনে বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোকে অনলাইনের পাশাপাশি সশরীরেও পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সে আলোকে ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে পরীক্ষার সূচিও ঘোষণা করেছে। তবে হল বন্ধ রেখে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, হল বন্ধ রাখা হলে শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকবে? সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি মেস নেই। এছাড়া মেসে থেকে পরীক্ষা দিতে যে অর্থ ব্যয় হবে তা নেই অনেকের। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি করে লেখাপড়ার ব্যয় বহন করে। তাদের টিউশনি নেই দীর্ঘদিন ধরে। এসব শিক্ষার্থী অর্থসংকটে রয়েছে। এ কারণে এসব শিক্ষার্থী অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, যে করেই হোক পরীক্ষা নিক। আর সেশনজট চাই না। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে চাই। এছাড়া অনেকের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে বলে জানান।
তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত পরীক্ষাগুলো নিয়মিত পরীক্ষার আগে নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ হল পুরোপুরি বন্ধ রেখে এই পরীক্ষাগুলো সশরীরে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুলাইয়ের আগে করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে না নামলে অনলাইনে সব পরীক্ষা নেওয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজার শিক্ষার্থী আবাসিক হলে থাকে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, হল বন্ধ রেখে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়বে। এতসংখ্যক শিক্ষার্থী ঢাকায় এসে মেস পাবে না। এছাড়া মেসে থেকে পরীক্ষা দেওয়ার সামর্থ্যও নেই অনেকের।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত পরীক্ষা চলছে সশরীরে। তবে নিয়মিত পরীক্ষা সশরীরে নাকি অনলাইনে হবে—এ বিষয়ে বিষয় সিদ্ধান্ত হবে ১৫ জুন। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অসমাপ্ত পরীক্ষাগুলোর বিষয়ে নিজ নিজ ডিপার্টমেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে। সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া হলেও কোনো হল খুলবে না। চলবে না শাটল ট্রেন। পরীক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে ক্যাম্পাসে আসতে হবে।
একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হবে অনলাইনে। পরীক্ষার জন্য ডিপার্টমেন্টগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ডিপার্টমেন্ট পরীক্ষার সূচিও দিয়েছে। পরীক্ষার সময় হল বন্ধ থাকবে। তাই ১২ হাজার ৮৮৪ শিক্ষার্থী বাইরে থেকে ক্যাম্পাসে এসে পরীক্ষা দিলে ভোগান্তি হবে—এ চিন্তায় অনলাইনেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদালয়টি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় শর্তসাপেক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ইনস্টিটিউট ও বিভাগের পরীক্ষাসমূহ সরকারি স্বাস্থ্যবিধি আগামী ১০ আগস্ট থেকে শুরু হবে। ঈদের আগে অনলাইনে মিডটার্ম, রিভিউ ক্লাস নেয়া হবে। যে সকল শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে নাই তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া আগামী ২৭ জুনের মধ্যে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। তবে দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হলে অথবা সরকারি অন্য কোন নির্দেশনা থাকলে সশরীরে পরীক্ষার তারিখ সমন্বয় করে পরিবর্তন করা হতে পারে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা হবে সশরীরে। হলে সাড়ে ৮ হাজার সিট আছে। ফলে হলে থাকলেও হলের বাইরে মেস ভাড়া করে বা অন্য কোনো উপায়ে ক্যাম্পাসে এসে পরীক্ষা দিতে হবে এসব শিক্ষার্থীকে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত হওয়া ফাইনাল পরীক্ষাসমূহ ২৪ জুন থেকে সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহ বন্ধ থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের মিডটার্ম পরীক্ষা ১৫ জুন থেকে অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগের ১১টি সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের মিডটার্ম পরীক্ষাও শুরু হয়েছে। যাদের পরীক্ষা চলছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে উঠেছে।