মৌসুমি: ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’

 

কদম ফুলের স্নিগ্ধ মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য চারপাশের পরিবেশকে মাতিয়ে তোলে। বৃষ্টির সঙ্গে কদমের ভালোবাসা খুবই নিবিড়। বর্ষা এলেই কদম ফোটে, চোখ ধাঁধিয়ে দেয় ফুলপ্রেমিদের। হলুদ-সাদা মিশ্র রঙের কদম ফুলে গাছ ছেয়ে যাওয়া, কদম গাছের শাখায় সবুজ পাতার আড়ালে ফুটে থাকা গুচ্ছ গুচ্ছ অজস্র ফুলের মিষ্টি সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় এই ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত।

এর আরেক নাম হলো নীপ। আরো নাম রয়েছে—যেমন বৃত্তপুষ্প, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভি, মেঘাগমপ্রিয়, মঞ্জুকেশিনী, কর্ণপূরক, পুলকি, সিন্ধুপুষ্প ইত্যাদি। বর্ণে, গন্ধে, সৌন্দর্যে এ দেশের ফুলগাছগুলোর মধ্যে অন্যতম। কদম ফুল গোলাকার। পুরো ফুলটিকে একটি ফুল মনে হলেও এটি আসলে অসংখ্য ফুলের গুচ্ছ। এ ফুলের ভেতরে রয়েছে মাংসল পুষ্পাধার, যাতে হলুদ রঙের ফানেলের মতো পাপড়িগুলো আটকে থাকে। পাপড়ির মাথায় থাকে সাদা রঙের পরাগদণ্ড।

বাংলা সাহিত্যে কদম বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ কদমগাছে উঠে বাঁশি বাজান এবং তাঁর দয়িতা শ্রীরাধিকাকে আকৃষ্ট করেন। ঘন সবুজ পাতার মাঝে হলুদ বন্ধুতায় চিরচেনা সেই কদম বৃক্ষ ও ফুল চোখ জুড়ানো। আষাঢ়ে বৃষ্টি তো ছুঁয়েছে বৃক্ষ, তবে সেই রিমঝিম জলে কদমের কোমলতা যেন খুঁজে পাওয়া ভার।

মুনযির আকলাম