ফল : সূর্য ডিম আম

পাহাড়ের মাটি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ জাপানিজ মিয়াজাকি বা সূর্য ডিম আম চাষের উপযোগী হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ সম্ভব। বিশ্ববাজারে এটি ‘রেড ম্যাংগো’ নামেও পরিচিত। অন্যান্য জাতের আম থেকে এটি ভিন্ন। দেখতে সুন্দর, খেতে খুব মিষ্টি ও স্বাদেও অনন্য। গড় ওজন প্রায় ৭০০ গ্রাম। খোদ পাহাড়েই ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে দাম আরো বেশি।

খাগড়াছড়ির বাগান মালিক হ্লাশিমং চৌধুরী ও মংসেতু চৌধুরী জাপানের মিয়াজাকি অঞ্চলের এই জাতের আম বাগান করে সফল হয়েছেন। মহালছড়ির ধুমনিঘাট ও জেলাসদরের কমলছড়ি এলাকায় পাহাড়ি টিলা জমিতে তাঁদের আম বাগান। গত বছর প্রথম ফল আসে। হ্লাশিমং চৌধুরীর ১২০টি এবং মংসেতু চৌধুরীর ৫০টি আম গাছ। কমলছড়ি ও মহালছড়ির ধুমনিঘাট পাহাড়ি ঢালু টিলা-উপত্যকায় লাগানো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে রঙিন নতুন জাতের এই আম।

জানা যায়, জাপানের মিয়াজাকি অঞ্চলে প্রথম চাষ হয় এ আমের। এলাকার নামানুসারে নাম হয় ‘মিয়াজাকি ম্যাংগো’। বাংলাদেশ ও ভারতে সূর্য ডিম বা লাল আম বলা হয়। অন্যান্য জাতের চেয়ে এ আমের পুষ্টিগুণ বেশি।

কৃষিবিজ্ঞানি ও বাগান মালিকদের ভাষ্যমতে, এ আমের  বাজার মূল্য ও চাহিদা দিন দিন বাড়বে। খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, মিয়াজাকি আমের চাষ পাহাড়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাতৃ চারা উত্পাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ফলদ বাগানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের জীবনমান পালটাতে এই আম চাষ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাহাড়ি কৃষির অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে যাবে।

শ্যামল রুদ্র