l মো. আমিরুজ্জামান
শিশুদের চিত্তবিনোদনে বিভিন্ন খেলনার পাশাপাশি মেধা বিকাশের নিমিত্তে পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পরিষদ চত্বরেই নির্মিত হয়েছে নান্দনিক শিশু পার্ক। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্যই এই পার্ক। ২০২০ থেকে শিশুপার্কটি সাজানোর কাজ শুরু হয়। পার্কে শিশু ও দর্শনার্থীরা শুধু বিনোদন ও বেড়ানোয় নয়, হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন পশু-পাখির ছবির সাথে পরিচিত ও শিক্ষা গ্রহণও করতে পারবেন। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খেলনাও।
পার্ককে ঘিরে খানসামার শিশু ও অভিভাবকরা বেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা পরিষদ চত্তরের এ শিশু পার্কের বিভিন্ন স্থানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে সেবাগ্রহীতাদের জন্য বক চত্বরসহ বসার জন্য টাইলস দিয়ে নির্মিত বেঞ্চও থাকছে। খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিশুদের চিত্তবিনোদনের অভাব পূরণসহ মেধা বিকাশে এই শিশু পার্ক নির্মাণ করছেন। পার্কে দেখা যায়, পার্কে প্রবেশের সময় শিল্পী ও ফটোগ্রাফারের ম্যুরাল আগতদের ছবি তুলছে আর সম্ভাষন জানাচ্ছে।
পার্কের মাঝে ২টি হরিণ দাঁড়িয়ে আর তাদের এক শাবক ঘাস খাচ্ছে। তার পূর্বে ৫টি বক দিয়ে নির্মিত বক চত্বরের পার্শ্বে রয়েল বেঙ্গল টাইগার মুখ হা করে হরিণের দিকে তাকিয়ে আছে। পশ্চিম-উত্তর দিকে আড়াআড়িভাবে সাজানো রয়েছে হাতি, জিরাফ, ঘোড়া, প্রজাপতি ও সিংহের ম্যুরাল। উত্তর-পূর্ব দিকে উটপাখি, ক্যাঙ্গারু ও ছবি তোলার জন্য নির্মিত রাস্তার দু’পাশে দুটি পেঙ্গুইন। পূর্ব দিকে ড্রাগন ও ডাইনোসর মুখোমুখি অবস্থানে। তাদের সামনে কলা খাওয়া অবস্থায় বানর ও স্যালুট অবস্থানে গরিলা রয়েছে।
বানর ও গরিলার দক্ষিণ পার্শ্বে আড়াআড়িভাবে ৩টি জেব্রা পূর্ব-দক্ষিণ হয়ে পশ্চিমের দিকে গাছের নিচে সাজানো মুখোমুখি অবস্থানে সাদা ও লালচে কালারের ৪টি সারোস, ডালের নিচে বসা ৪টি টিয়া, পাখা মেলে বসে আগে ২টি ময়ুর, ১টি হাঁসের কার্টুনের বাদ্যযন্ত্র বাঁজানোর তালে তালে নাচ অবস্থায় ২টি হাঁসের কার্টুন, জাতীয় পাখি দোয়েল ও মা হাতির মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ছোট হাতির বাচ্চা। এছাড়াও নির্মাণ করা হয়েছে ডানা মেলে উড়ন্ত ঈগল পাখির ম্যুরাল। পশু-পাখির সমারোহ ছাড়াও শিশুদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে দোলনা, রাউন্ড দোলনা, ঘোড়া রাউন্ড দোলনা, স্লিপার। ঘুরার জন্য রয়েছে সৌন্দর্যময় টাইলসের রাস্তা।
আর বসার জন্য রয়েছে সুন্দর টাইলস দিয়ে নির্মিত বেঞ্চ। নির্মাণাধীন শিশুপার্কটি দেখতে আশপাশসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার শিশুরা-কিশোর ও অভিভাকরা প্রতিদিন বিকেলে পার্ক দেখতে ছুঁটে আসছেন। উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও স্থানীয়রা জানান, ছুটির দিনেও অফিস করে অবসরে পার্কে গেলে ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। বিকেলের দিকে শিশুদের নিয়ে খেলাধুলা করা যায়।
এ ব্যাপারে খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ধরনের একটি পার্ক তৈরি করা হয়েছে। এ শিশু পার্কে বিভিন্ন প্রাণীর ম্যুরাল ও রাইড স্থাপন করা হয়েছে।
লেখক :সৈয়দপুর, নীলফামারী সংবাদদাতা