g শফিকুল ইসলাম শফিক
আমার নাম ভাংড়ি ফোন। সর্বপ্রথম কে আমার নাম রেখেছে তা সঠিক নিজেই জানি না। সে কথা নিয়ে একদম টেনশন করি না। কোনো কিছু গড়লে কখনো আবার সেটা কারও ভাঙতে ভালো লাগে। দাঁত কেলিয়ে হাসে। এমনকি সে খুব মজা পায়। ভাংড়ি জিনিসের মতো আমিও অবহেলায় পড়ে থাকি। এটাই জগতের রীতিনীতি।
আমার জীবন কাহিনি অনেক কষ্টের। অভিজাত বংশে আমার জন্মপরিচয়। একদিন অনেক ধুমধাম করে একজন ভোটকা আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে গেল। সেদিন থেকে আমার ওপর শুরু হলো অসহনীয় নির্যাতন। আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। মানুষের একটুআধটু রাগ উঠতেই পারে। তাই বলে কি সে আমাকে এত জোরে আছাড় মারবে? গায়ের জোরে সবই সইতে পারি। কিছুই বলতে পারি না। আমি যে নির্বাক!
একটি দিনের কথা মনে হলে আজও দুচোখ জলে ভাসে। যখন কারও মেজাজ খারাপ হয়, তখন সে আমাকে আপদ মনে করে। আমাকে চিরদিনের জন্য বিদায় করতে চায়। একদিন ভোটকা পারিবারিক কলহ-বিবাদের লাগাম ধরে আমাকে যেন আসমান থেকে জমিনে ছুঁড়ে ফেলল। সঙ্গে সঙ্গে আমি খণ্ডবিখণ্ড হয়ে গেলাম। পরে কয়েকজন লোক এসে আমার হাড্ডি-গোশত জড়ো করল। সেদিন থেকে আমি আর কথা বলতে পারি না।
আমি যত হেনস্থা হয়েছি তাতে আর কোনো আফসোস করি না। সুসময়ে সবাই আমাকে খুব সম্মান করে। অসময়ে আমি সাফ সাফ ঘৃণার পাত্র হয়ে যাই। হায়রে মানুষ! এত নিষ্ঠুর সমাজ। মোবাইল ব্যবসায়ী ভাইদের কাছে অনুরোধ, এসব বদমেজাজি লোকের কাছে ফোন বিক্রি করা থেকে বিরত থাকুন। এরা সুযোগে আপনাকেও হেনস্থা করে ছাড়বে। প্রয়োজনে মেজাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সকল ব্যবস্থাপত্র সঙ্গে রাখতে পারেন।
আমার সঙ্গী-সাথি তারাও আজ অনেকে লাত্থি-গুঁতা খাচ্ছে। মুখ বুজে আর কতদিন সহ্য করব? তবু একটি মানুষ রুখে দাঁড়ায় না। কারও মনে কি একফোঁটা দয়া-মায়া নেই? ফোনের মালিককে আছাড় মারতে আমারও দারুণ ইচ্ছে করে। কিন্তু আমার যে এমন সাধ্য নেই। কয়েকদিন পর আমাকে একটি পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেল। ডাক্তার বললেন, ‘আমি নাকি শ্বাসরুদ্ধ। আর কোনোদিন কথা বলতে পারব না।’
কনইল, ভীমপুর, নওগাঁ।