আগামী ১৯ জুন থেকে দেশে সিনোফার্ম ও ফাইজারের টিকাদান শুরু হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন। মায়ের মৃত্যুতে মহাখালীতে এক দোয়া মাহফিলে অংশ নেন জাহিদ মালেক। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
টিকার আন্ত-র্জাতিক প্ল্যাটফরম কোভ্যাক্স থেকে মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি বায়োএনটেকের তৈরি ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজের টিকা চালান দেশে এসেছে গত ৩১ মে। আর চীনের উপহার হিসেবে পাঠানো ১১ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা ১২ মে এবং ১৩ জুনের দুই চালানে বাংলাদেশে পৌঁছায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নির্দিষ্ট তারিখ আমরা এখনো ঘোষণা করি নাই। প্ল্যানটা করে নিই, আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে এই টিকা দেওয়া শুরু করতে পারব।’ তিনি জানান, টিকার জন্য ইতিমধ্যে যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদেরই এ টিকা দেওয়া হবে। টিকা দেওয়ার সময় এবং তারিখ মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, টিকার জন্য নিবন্ধন আপাতত বন্ধই থাকবে। পর্যাপ্ত টিকা হাতে এলে তখন আবার নতুনদের নিবন্ধন শুরু হবে।
ফাইজার-বায়োএনটেক এবং সিনোফার্মের টিকার ক্ষেত্রে মেডিক্যাল, নার্সিং, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু এখন ৪০ বছরের কম বয়সিরা সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারেন না। তাহলে ঐ শিক্ষার্থীর নিবন্ধন কীভাবে হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. খুরশীদ আলম বলেন বিষয়টি আইসিটি বিভাগ দেখবে। আইসিটি একটা বিশেষ ব্যবস্থা করবে, যাতে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের জাতীয় সুরক্ষা সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করানো যায়। বিষয়টি নিয়ে উনারা কাজ করছেন। আমরা আশা করছি এটা হয়ে যাবে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা দিয়ে গণটিকাদান শুরু হয়। ভারত থেকে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৩ লাখ ডোজ টিকা এসেছে বাংলাদেশে। ৩ কোটি ডোজ টিকা আসার কথা থাকলেও মার্চে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় দেশে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার মতো অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাও হাতে নেই। কোভ্যাক্স থেকে শিগিগরই ১০ লাখের বেশি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসবে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হলেও তার দিন-তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, রবিবার পর্যন্ত দেশে ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৯ জন সুরক্ষা প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪২ লাখ ৫০ হাজার ১৬৭ জন।