স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি এখনো চলছে

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযোগের উত্তরে টিআইবি জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলা কার্যক্রম নিয়ে টিআইবির গবেষণাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ক্রয় ও সরবরাহে অনিয়ম-দুর্নীতি লক্ষ করা গেছে, যা একদিকে প্রয়োজনীয় সরবরাহের ঘাটতি তৈরি করছে, অন্যদিকে এসব মানহীন উপকরণ নমুনা পরীক্ষা ও চিকিত্সাব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। মানহীন সুরক্ষাসামগ্রী অনেক                চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীর করোনায় আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর উল্লেখযোগ্য একটি কারণ ছিল। বর্তমান সময়েও এই অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে, যার কয়েকটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিগত এক বছরেও কোনো যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট গুটি কয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বলতে কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের রদবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে টিআইবির সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টটিকে ‘আগাগোড়াই ভুল তথ্যসংবলিত’ এবং ‘শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে টিআইবির মনগড়া সমালোচনা’ বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মন্তব্যের জবাবে টিআইবি এসব তথ্য তুলে ধরেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)র করা ‘করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবিলা :কোভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণার ওপর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নয়টি মন্তব্যের জবাব দিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল সোমবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া বেশ কিছু অভিযোগের বিপরীতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, টিআইবির প্রতিবেদনকে ‘আগাগোড়া মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যায়িত না করে বরং টিআইবি কর্তৃক চিহ্নিত ঘাটতিসমূহ দূর করা এবং সুপারিশকৃত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই অতিমারি নিয়ন্ত্রণে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। টিআইবির কোভিড-১৯ সংক্রান্ত কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা ও কার্যক্রমকে কীভাবে আরো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণের মাধ্যমে সরকারকে সহায়তা করা।

টিআইবি জানিয়েছে, এই গবেষণা সম্পন্ন করার জন্য টিআইবি সামাজিক বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় উত্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং প্রতিটি তথ্যের সত্যতা একাধিক সূত্র থেকে যাচাই করেছে।