দেশে দেড় মাস পর দৈনিক শনাক্ত ৩ হাজার ছাড়াল

নতুন করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির ধারায় দেড় মাস পর দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আবার ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, এক দিনে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ফের অর্ধশত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ৩ হাজার ৫০ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে; মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের। এর আগে এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল গত ২৬ এপ্রিল, সেদিন ৩ হাজার ৩০৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর এক দিনে এর চেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর                 এসেছিল সর্বশেষ গত ৯ মে। সেদিন করোনা ভাইরাসে ৫৬ জনের মৃত্যুর খবর এসেছিল।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তিনি একজন পুরুষ (৪৫) এবং তিনি খুলনা থেকে এসেছেন। ঐ রোগী এর আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. ফরহাদ হাছান চৌধুরী মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই রোগী কোভিড-পরবর্তী জটিলতা নিয়ে আমাদের ইউনিটে ভর্তি হন সপ্তাহখানেক আগে। উনার মাথাব্যথা, সাইনোসাইটিস এবং ডান চোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমি তাকে ফাঙ্গাস ইনফেকশন সন্দেহ করি এবং নাক কান গলা বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে সাইনাস অপারেশন করি। তারপর ওখানকার স্যাম্পল নিয়ে ফাঙ্গাস টেস্ট করতে দিই। রোগীর হিস্টোপ্যাথলজি, মাইক্রোস্কপি আর কালচার তিনটাতেই মিউকর মাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়। বর্তমানে রোগীর এম্ফোটেরিসিন-বি দিয়ে চিকিত্সা চলছে।’ ডা. ফরহাদ হাছান চৌধুরী মারুফ জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. টিটু মিয়া এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। নাক কান গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার আরাফাত সৌরভ জটিল অপারেশনটি সম্পন্ন করেন। মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষাগুলো করেন বারডেম হাসপাতালের প্রফেসর ডা. লাভলি বাড়ৈ।

এদিকে গত এক দিনে নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৯৭২ জন হয়েছে। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ১৭২ জন। সরকারি হিসাবে, আক্রান্তদের মধ্যে এক দিনে আরো ২ হাজার ৫৬৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫১২টি ল্যাবে ২০ হাজার ৬০২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬১ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৪টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৯৭টি; বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৬ লাখ ৭৬ হাজার ২১৭টি। গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের ৩৯ জন পুরুষ আর নারী ১৫ জন। তাদের ৪০ জন সরকারি হাসপাতালে, ১০ জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বাসায় মারা গেছেন চার জন। তাদের মধ্যে ২৭ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৪ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ছয় জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, পাঁচ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর, এক জনের ২১ থেকে ৩০ বছর এবং এক জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ১৩ জন ঢাকা বিভাগের, ১৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ১৩ জন রাজশাহী বিভাগের, সাত জন খুলনা বিভাগের, এক জন বরিশাল বিভাগের, পাঁচ জন রংপুর বিভাগের এবং এক জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এ পর্যন্ত মৃত ১৩ হাজার ১৭২ জনের মধ্যে ৯ হাজার ৪৭৭ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৬৯৫ জন নারী।